নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধযুদ্ধবিরতির পরও গাজায় এবছর ৯ শতাধিক মানুষ নিহতকয়েক মাসের মধ্যেই পুরো সংসদ চলবে সৌরবিদ্যুতে : প্রধানমন্ত্রীময়মনসিংহে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ
No icon

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি কিশোর নিহত

ইসরাইল দখলকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের রামাল্লার কাছে আল-মুঘাইয়ের গ্রামে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় দুই ফিলিস্তিনি তরুণ নিহত হয়েছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের বয়স ১৬ ও ১৯ বছর।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-মুঘাইয়ের গ্রামের কেন্দ্রীয় এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করে কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায় এবং ভেড়া নিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালায়। এতে দুই তরুণ গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবশ্য ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিককে নিরাপত্তা দিতে সেনারা আল-মুঘাইয়েরে প্রবেশ করেছিল। সেখানে ‘সহিংস গোলযোগ’ সৃষ্টি করে পাথর ছোড়া হলে সেনারা নিজেদের ভাষায় ‘মূল উসকানিদাতাদের’ লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

আল-মুঘাইয়েরে এ ধরনের সহিংসতা নতুন নয়। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্টও গ্রামটিতে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ১১ ফিলিস্তিনি আহত হন। গ্রামটির একমাত্র প্রবেশপথেও নিয়মিত হামলা, যানবাহন ভাঙচুর ও চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। চলতি বছরের শুরু থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ৭৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৯ জন শিশু; আহত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৮৭০ জন।

এদিকে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও বেড়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, চলতি বছর ১০ আগস্ট পর্যন্ত বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, উচ্ছেদ ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের কারণে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সময়ে জাতিসংঘ ১ হাজার ৪৩০টির বেশি বসতি স্থাপনকারী-সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, যা অঞ্চলটিতে নজিরবিহীন মাত্রার সহিংসতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত আগস্টে নাবলুসের কাছে কুসরা গ্রামে ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ি ঘিরে বসতি স্থাপনকারীদের কয়েক সপ্তাহের অবরোধ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এরপরও সেখানে হামলা থামেনি। ২৯ আগস্টও মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারীরা কুসরার একটি ফিলিস্তিনি বাড়িতে হামলা চালায়। রয়টার্স জানিয়েছে, বাড়িটির ভেতরে থাকা কয়েকজনকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়; সেখানে উপস্থিত ইসরায়েলি সেনারা কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করলেও কোনো বসতি স্থাপনকারীকে গ্রেফতার করা হয়নি।

পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলের দখলে যাওয়া এ ভূখণ্ডে নতুন বসতি ও বসতি-চৌকি স্থাপনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও নতুন চৌকি স্থাপনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জমি ও চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে। বিশেষ করে কুসরাসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন বসতি-চৌকিকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর ওপর চাপ ও চলাচলে বিধিনিষেধ জোরদার হয়েছে।

ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, বসতি স্থাপন ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার মাধ্যমে পশ্চিম তীরে তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের চাপ তৈরি করা হচ্ছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারাও সতর্ক করে বলেছেন, পশ্চিম তীর এখন ‘সংকটজনক অবস্থায়’ পৌঁছেছে এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নজিরবিহীন পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল বসতি স্থাপনকে নিজেদের নিরাপত্তা ও ঐতিহাসিক দাবির সঙ্গে যুক্ত করে থাকে।