মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে থমকে দিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে এক অভূতপূর্ব ও ভীতিকর উদ্ভাবনের দাবি করেছে ইরান। দেশটির তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন আর আগের মতো শুধু একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সনাতন ধারায় সীমাবদ্ধ নেই। উড্ডয়নরত অবস্থাতেই গতিপথ পরিবর্তন করা, শত্রুভাবাপন্ন দেশের আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যুহকে ফাঁকি দেওয়া এবং প্রয়োজনবোধে বিকল্প বা দ্বিতীয় কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
গত ১০ আগস্ট কাজভিন শহরের এক অনুষ্ঠানে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি ইরানের এই নতুন প্রযুক্তির তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আগের মতো একবিন্দু থেকে উৎক্ষিপ্ত হয়ে অন্যবিন্দুতে গিয়ে পড়ার সাধারণ অস্ত্র নয়; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আধুনিক গাইডেন্স সিস্টেম এবং কারিগরি সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এগুলোকে এখন এক ধরনের "প্রযুক্তিগত যুদ্ধে" রূপান্তরিত করা হয়েছে।
কেন এই দাবি এত উদ্বেগজনক?
প্রথাগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর একটি নির্দিষ্ট ধনুরাকৃতির পথ অনুসরণ করে। ফলে প্রতিপক্ষের দীর্ঘপাল্লার রাডার ও সতর্কীকরণ স্যাটেলাইটগুলো সহজেই ক্ষেপণাস্ত্রের চূড়ান্ত পতনস্থল হিসাব করে ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে।
তবে ইরান যে নতুন সক্ষমতার কথা বলছে, তা এই সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দেবে। বায়ুমণ্ডলে পুনর্দখল নেওয়ার পর ক্ষেপণাস্ত্রটি যদি নিয়ন্ত্রণ পাখনা বা ট্রাস্টার ব্যবহার করে গতি ও দিক পরিবর্তন করে, তবে প্যাট্রিয়ট, থাড বা অ্যারো-র মতো ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সঠিক লক্ষ্য নির্ণয়ে ব্যর্থ হতে পারে।