পল্লবীতে চলন্ত গাড়ি থেকে গুলি, আহত ২হরমুজ খুলতে ইরান-ওমানের অগ্রগতিরাজধানীতে সকাল থেকেই বৃষ্টি, চলতে পারে সারাদিনরপ্তানি বাড়াতে বাণিজ্য চুক্তির দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ৭ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা
No icon

হরমুজ খুলতে ইরান-ওমানের অগ্রগতি

হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে। খুব শিগগিরই এ নিয়ে একটি চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তি হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহনপথ দিয়ে আবারও স্বাভাবিকভাবে তেল সরবরাহ শুরু হতে পারে।হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা এগিয়েছে এবং ওয়াশিংটন শিগগিরই একটি সমঝোতা হওয়ার আশা করছে। দেশ দুটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালির দুই পাশে অবস্থিত।ওই কর্মকর্তা বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই পুনরায় চালুর বিষয়ে চুক্তি ঘোষণা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা অবরোধ তুলে নেবে। তবে ইরান তার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করছে কি না, তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে বলেও জানান তিনি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বে ব্যবহৃত প্রতি পাঁচ ব্যারেল তেলের প্রায় এক ব্যারেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। কিন্তু সংঘাত শুরুর পর তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তেলবাহী জাহাজের কাছ থেকে মাশুল আদায় এবং অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজে হামলার যৌক্তিকতা দেখিয়েছে। এতে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপও বেড়েছে।

হরমুজ নিয়ে বারবার আলোচনার ইঙ্গিত

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছে যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি খুব কাছাকাছি। তবে প্রতিবারই ইরান জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো আলোচনা চলছে না। ফলে সর্বশেষ দফার কূটনৈতিক তৎপরতা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমঝোতায় রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনভিত্তিক ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলাও বেড়েছে। আরব উপদ্বীপের অপর প্রান্তে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যবর্তী আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তারা জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি শুক্রবার জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় তাদের ১৫টি জাহাজে হামলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসব হামলা ছিল বিনা উসকানিতে। এতে একজন ক্রু সদস্য নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।

মক্কায় নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি

এদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্যও হুমকি তৈরি করায় আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার মক্কায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক।যুক্তরাষ্ট্রের তিন মিত্র এই দেশগুলোর জনসংখ্যার বড় অংশ সুন্নি মুসলিম। দেশগুলোর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করাই এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।তুরস্ক জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি এবং এটি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক। তবে শিয়া-অধ্যুষিত ইরানের সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা যখন তীব্র আকার ধারণ করেছে, তখন এই চুক্তি নতুন করে তাৎপর্য তৈরি করেছে।