১৩ জেলায় বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতাচট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত ৩ উপজেলা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রীপ্রথম শ্রেণির ভর্তিতে লটারিই থাকছেবিরোধী দল ছাড়াই শুরু হচ্ছে সংবিধান সংশোধনের কাজবৃষ্টি ঝরবে আগামী কয়েক দিন, শঙ্কা বন্যা পরিস্থিতির
No icon

ট্রাম্পের পিছুটানে দরকষাকষির ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক ও সামরিক হুমকি দেওয়ার পর তা থেকে পিছিয়ে আসায় আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও অবস্থান গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দ্রুত—এমনকি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই—একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ইচ্ছুক হতে পারেন। তবে পারমাণবিক চুক্তি বা হরমুজ প্রণালীর সংকটের বাইরে প্রধান প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র কি নিজেদের সম্মান ও ভাবমূর্তি রক্ষা করে এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে পারবে? অধ্যাপক মাসগ্রেভের মতে, “ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে চেপে ধরেছেন। ট্রাম্প এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে চাচ্ছেন, কিন্তু তা এত সহজে সম্ভব নয়। বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁকে একজন ‘পরাজিত’ শাসক হিসেবে তুলে ধরছে।” 

সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন, দেশে জ্বালানি তেলের অতিরিক্ত মূল্য এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধের তীব্র অপ্রিয়তা ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলেছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই নেতিবাচক পরিস্থিতি ট্রাম্পের পক্ষে ঘুরিয়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব বলেই মন্তব্য করেন এই বিশ্লেষক।

অন্যদিকে, অর্থনৈতিক নানা সংকটে থাকলেও ইরানি নেতৃত্ব ভালো করেই বোঝে—যুক্তরাষ্ট্রকে যত বেশি রাজনৈতিক চাপে ফেলা যাবে, তারা তত সুবিধাজনক শর্তে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে।

পল মাসগ্রেভ উপসংহারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দরকষাকষির মূল শক্তি ছিল সামরিক সংঘাতের হুমকি দেওয়া এবং বৈশ্বিক বাজার ও অর্থনীতিতে ইরানের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু হুমকি দিয়ে তা থেকে বারবার ট্রাম্পের পিছু হটার নীতি যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রভাব ও দরকষাকষির শক্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দিয়েছে।