হিন্দুত্ববাদী আদালতের দাবি, সরকারি জমি ‘অবৈধভাবে দখল’ করে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু ভেঙে ফেলার নির্দেশই নয়, গত ৭০ বছর ধরে এই জমিটি অননুমোদিতভাবে ব্যবহারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে মসজিদ কমিটির ওপর ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপিরও বেশি বিশাল অঙ্কের জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
গত ১৬ জুলাই (২০২৬) উত্তরপ্রদেশ পাবলিক প্রেমিসেস (উচ্ছেদ) আইন, ১৯৭২-এর আওতায় এই বিতর্কিত রায় দেন সিটি ম্যাজিস্ট্রেট কুলদীপ সিং। ৩৬ পৃষ্ঠার এই আদেশে বলা হয়েছে, ৩১৫ বর্গমিটার সরকারি খাস জমির ওপর নির্মিত এই কাঠামোটি অবিলম্বে উচ্ছেদ করতে হবে।
আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, খাসরা নম্বর ৫৩৯-এর এই জমিটি রাজস্ব রেকর্ডে রাজ্য সরকারের কালেক্টরেট/কাচারি জমি হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। উচ্ছেদ আদেশের পাশাপাশি আদালত ৬,৪১,৬৫,৫০০ রুপি জরিমানা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমান সার্কেল রেট (প্রতি বর্গমিটারে ৫৮,২০০ টাকা) অনুযায়ী, ফসলি সন ১৩২৪ থেকে শুরু করে বিগত ৭০ বছরের জন্য বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে এই বিশাল ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা হিসাব করা হয়েছে। উল্লেখ্য, 'ফসলি সন' হলো একটি কৃষি ও রাজস্ব ক্যালেন্ডার, যা সম্রাট আকবরের সময় থেকে ইসলামিক চন্দ্র ক্যালেন্ডারের সাথে স্থানীয় সৌর ফসলের সমন্বয় সাধনের জন্য চালু হয়েছিল।
জঙ্গি গোষ্ঠী বজরং দলের সাবেক প্রাদেশিক সমন্বয়কারী বিকাশ ত্যাগীর দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। পিটিআই-এর বরাতে জানা গেছে, ত্যাগী তার অভিযোগে দাবি করেন—জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় চত্বরের মতো একটি উচ্চ-নিরাপত্তাবেষ্টিত ও গোপনীয় প্রশাসনিক এলাকায় অবৈধভাবে মসজিদটি তৈরি করা হয়েছিল।
একই সাথে অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এই চত্বরটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহৃত হচ্ছিল। সেখানে একটি পোস্ট অফিস চালানো এবং কয়েকটি কক্ষ বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দিয়ে মসজিদ কমিটি অর্থ আদায় করছিল বলে অভিযোগ আনা হয়। আদালত সরকারের পক্ষে রায় দিয়ে অবিলম্বে এই উচ্ছেদ ও জরিমানা আদায়ের নির্দেশ কার্যকর করতে বলেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরপ্রদেশে সরকারি জমিতে নির্মিত দাবি করে ধর্মীয় স্থাপনা, বিশেষ করে মুসলিম উপাসনালয় ভাঙার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে কুশীনগরের মাদানি মসজিদের একটি অংশ উচ্ছেদ করা হয়েছিল। যদিও মসজিদ কমিটি দাবি করেছিল জমিটি আইনসম্মতভাবে কেনা। কুশীনগরের ঘটনাটি সুপ্রিম কোর্টের ২০২৪ সালের 'বুলডোজার অ্যাকশন' সংক্রান্ত নির্দেশিকা (যেখানে আগাম নোটিশ ছাড়া উচ্ছেদ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল) লঙ্ঘন করায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত উত্তরপ্রদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবমাননার নোটিশ জারি করেছিল।
সাহারাণপুরের এই ঐতিহাসিক মসজিদটি নিয়ে আদালতের সর্বশেষ এই কঠোর পদক্ষেপ রাজ্যজুড়ে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।