দেশের ভেতরে হবে সরকারি ডেটা সংরক্ষণ, বাড়বে নিরাপত্তা৫০তম বিসিএসের প্রিলি আজ, মানতে হবে যেসব নির্দেশনাইরানে শাসন পরিবর্তনে ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে’ হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পেরগণভোটে সরকারি কর্মকর্তারা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে প্রচার চালাতে পারবেন না: ইসিশেরপুরের সহিংসতার ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে: অন্তর্বর্তী সরকার
No icon

ইরানে শাসন পরিবর্তনে ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে’ হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক বিকল্প বিবেচনা করছেন। এর মধ্যে আছে নিরাপত্তা বাহিনী ও দেশটির শীর্ষ নেতাদের ওপর সুনির্দিষ্ট হামলা। দেশটির শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে তিনি এ হামলা করতে চান। তবে ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্ররা সতর্ক করেছে, কেবল বিমান হামলায় শাসন ব্যবস্থা বদলানো যাবে না। আর উপসাগরীয় দেশগুলো বলেছে, এ হামলায় তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন গতকাল বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানায়। অপরদিকে সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে আছে ইরানও। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি লেখেন, তাদের সামরিক বাহিনী ‘ট্রিগারে আঙুল ধরে আছে । অর্থাৎ ইরান হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত এমনটাই তিনি বুঝিয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, এ মাসের শুরুতে ইরানে বিক্ষোভ আন্দোলনকে দমনের পর ট্রাম্প শাসন পরিবর্তনের জন্য পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। সূত্র জানায়, ট্রাম্প সহিংসতার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করা ইরানের কমান্ডার ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে আঘাতের কথা বিবেচনা করছেন।

বিক্ষোভকারীদের আত্মবিশ্বাস দিতে তিনি এটা করতে চান, যাতে তারা সরকারি ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ভবন নিজেদের দখলে নিতে পারেন।যুক্তরাষ্ট্রের একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের সহযোগীরা বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে আছে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে, এমন বড় ধরনের হামলাও। এ ক্ষেত্রে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনাধীন। আরেকটি সূত্র বলছে, সামরিক পদক্ষেপ বা অন্য কিছু ট্রাম্প এখনও কোনো পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্প মনে করেন, চলতি মাসের শুরু থেকে তাঁর সামরিক বিকল্পগুলো প্রসারিত হয়েছে। এখন মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছে। গত সোমবার ভারত মহাসাগর থেকে ক্রমেই এটি ইরানের আরও কাছাকাছি যাচ্ছে। বিবিসি লিখেছে, চুক্তির জন্য সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে বলেও সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।

পারমাণবিক আলোচনায় অচলাবস্থা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সমস্যা

মার্কিন গণমাধ্যম সূত্রের বরাত দিয়ে টার্কি টুডে জানায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সীমিত করার বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি। ওমানের কূটনীতিকদের মাধ্যমে ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে বার্তা বিনিময় করে আসছিলেন। একটি বৈঠকে কিছু আলোচনাও হয়েছিল। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি।সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ইরান তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার সীমাবদ্ধতা নির্ধারণে যেন সম্মত হয়। এটি ইসরায়েলের জন্য তীব্র উদ্বেগের বিষয়। গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় হিমশিম খেয়েছিল ইসরায়েল। এতে ইসরায়েলে বহু হতাহত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইরান ওই দাবি মেনে না নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছে, তারা কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো জবাব দেয়নি। ফলে একটা অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থলপথে অভিযান চায় ইসরায়েল

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি ধারণা রাখেন এমন এক ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ইসরায়েল বিশ্বাস করে না যে, কেবল বিমান হামলাই ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটাতে পারে। ওই কর্মকর্তা বলেন, যদি আপনি শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটাতে চান, তাহলে আপনাকে মাঠে অভিযান চালাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করলেও ইরানে নতুন নেতা তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন। এক হাজার ড্রোন পেল ইরানের সেনাবাহিনী ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখা এক হাজার ড্রোনের একটি ব্যাচ পেয়েছে। সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ আমির হাতামি বলেন আগামী হুমকির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেনাবাহিনী দ্রুত যুদ্ধ ও যে কোনো আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তার কৌশলগত সুবিধা বজায় রেখেছে ও শক্তি বৃদ্ধি করছে।