পোশাক রপ্তানিতে আবারও দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশমোড়কজাত সনদ ছাড়া পণ্য বিক্রি করলে জেল ও জরিমানা স্পেনকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে জাপানরোহিঙ্গা পুনর্বাসন শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রশীর্ষে থাকার ম্যাচে আজ মাঠে নামছে ব্রাজিল
No icon

ফেসবুকজুড়ে প্রতারণার ফাঁদ

৩৫-৪০ হাজার টাকা দামের সাইকেল মিলছে ৪ হাজার ৬০০ টাকায়! ১ হাজার টাকা বাড়িয়ে দিলেই পাওয়া যাবে বাংলাদেশের বাজারে না থাকা অত্যাধুনিক ইউরোপীয় সাইকেল! আবার টাটা কোম্পানির মোটরযুক্ত সাইকেল মিলছে মাত্র ৭ হাজার টাকায়! শুধু তাই নয়, সোয়া লাখ টাকা দামের আইফোন-১৩ প্রো মোবাইল ফোন পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪ হাজার টাকায়! সঙ্গে ঘড়ি ফ্রি! তবে এজন্য বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে অগ্রিম পাঠাতে হবে মোট মূল্যের একটি অংশ। অবশ্য বিকাশে অগ্রিম ফুল পেমেন্ট করলে কেউ আবার দিচ্ছে ২০% ক্যাশব্যাক! তাতে আইফোনের দাম পড়বে ৩ হাজার টাকার মতো! আর সারা বাংলাদেশে ডেলিভারি হবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। ফেসবুকে এমন প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে ভূরিভূরি। লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখো মানুষের টাকা।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বিকাশ বা নগদ -এর মাধ্যমে অগ্রিম টাকা পাঠিয়ে ফোন দিলেই ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে ক্রেতার নম্বর। কখনো আবার টাকা পাঠিয়ে ফোন দিলে করা হচ্ছে গালাগাল। এ নিয়ে ফেসবুকের ওই পেজে অভিযোগ করলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সে মন্তব্য মুছে ফেলা হচ্ছে। আবার কেউ সরেজমিন দেখে পণ্য কেনার কথা বললে ভুলভাল ঠিকানা বলে করছে হয়রানি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে তারা শুধু অনলাইনেই পণ্য বিক্রি করে। লোভনীয় প্রস্তাবগুলো দেওয়া হচ্ছে সীমিত সময়ের জন্য। ফলে সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে অনেকেই তাড়াহুড়ো করে টাকা পাঠিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন। এসব পেজ কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ, পেজে ক্রেতাদের মন্তব্য, নিজে ফোন করে ও তাদের দেওয়া ঠিকানায় সরেজমিন গিয়ে এসব প্রতারণার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। একাধিক সাইকেল বিক্রির পেজে দেওয়া নম্বরে ফোন ও মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করলে একই অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। অনেক ক্রেতা নিজে দেখে ২০-২৫টি সাইকেল কেনার প্রস্তাব দিলেও তাতে সাড়া দেয়নি পেজগুলোর অ্যাডমিন।

পেজগুলোয় যেসব আকর্ষণীয় সাইকেলের ছবি দেওয়া হয়েছে তার অনেক মডেলই বাংলাদেশের বাজারে নেই বলে জানিয়েছেন বংশালের সাইকেল ব্যবসায়ীরা। এদিকে বিকাশ নম্বর ব্যবহার করে এমন প্রতারণার বিষয়ে জানতে চাইলে বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, আমরা অভিযোগ পেলেই ওইসব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা বন্ধ করে দিই। নিজেরাও মনিটরিং করি। আসল জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা যায় না। তাই এসব প্রতারকের পরিচয় জানা কঠিন নয়। তবে এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিষয়। এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ বলেন, এটা ডিজিটাল প্রতারণা। আমরা সব সময় মনিটরিং করছি। এগুলো চোখে পড়লে বা অভিযোগ পেলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিই।