নুরের নতুন রাজনৈতিক দল ' বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদ'বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা নারীবিতর্কিত ব্যক্তির নামের প্রতিষ্ঠান এমপিও নয়ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশসৌদি আরবে করোনা সংক্রান্ত বিধিনিষেধে শিথিলতা
No icon

টিকাদানে চার পরিকল্পনা

দেশে আগামী তিন মাসে আরও ২ কোটি ৯৬ লাখ ডোজ করোনা ভাইরাসের টিকা আসছে। এর মধ্যে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে ৫০ লাখ ডোজ, ২৯ নভেম্বরের মধ্যে ১ কোটি ২৬ লাখ ডোজ এবং ২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে আসবে ১ কোটি ২০ লাখ ডোজ। ইতোমধ্যে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে কেনা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ডের বাকি চালানও আসতে শুরু করেছে। আগামী নভেম্বরের পরে আরও ৬ কোটি টিকা ও সিরিঞ্জ কেনারও প্রস্তুতি চলছে। ফলে আসছে দিনগুলোয় টিকাদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছে সরকার।জানা গেছে, প্রাপ্তিসাপেক্ষে দেশে টিকাদানের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে চারটি পরিকল্পনা। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে ভ্যাকসিন ডেপ্লায়মেন্ট কমিটি করোনা টিকাসংক্রান্ত এসব পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোভ্যাক্সের আওতায় দেশে আসা মার্কিন কোম্পানি ফাইজারের টিকা ১২ থেকে ১৭ বছরের শিশু এবং বিদেশগামী কর্মীদের দেওয়া হবে। রাজধানীর ঢাকার পাশাপাশি আরও ১৯ জেলায় দেওয়া হবে ফাইজারের টিকা। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার থেকে ১৯ জেলায় টিকা পাঠানো শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আপাতত যেসব জেলায় ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে সেগুলো হলো- বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, গাজীপুর, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, যশোর, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও হবিগঞ্জ। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪টি, চাঁদপুরে ২টি, নেয়াখালীতে ২টি, নরসিংদীতে ৩টি, ময়মনসিংহে ২টি এবং রাজশাহীতে ৮টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকার উভয় সিটি করপোরেশনে এই টিকা দেওয়া হবে ৮টি কেন্দ্রে। ভবিষ্যতে মানিকগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ আরও ২৬ জেলায় ফাইজারের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ওসব জেলার টিকাদান সম্পৃক্তদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের১৬ কেন্দ্রের সঙ্গে জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতালে) চালু করা হবে ফাইজারের টিকাদান কেন্দ্র।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র বলছে, টিকার প্রাপ্তি ও সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বছরের আগামী দিনগুলোর জন্য চারটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রথম পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিনে ৬ লাখ করে প্রতি মাসে ২ কোটি টিকা প্রদান করা হবে। এই পরিকল্পনায় মাসে একবার পরিচালনা করা হবে বিশেষ ক্যাম্পেইন। দ্বিতীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিনে ১০ লাখ করে মাসে ৩ কোটি টিকা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে মাসে এক বা দুবার বিশেষ ক্যাম্পেইন হতে পারে। তৃতীয় পরিকল্পনায় দিনে ৬ থেকে ১৫ লাখ করে মাসে ৪ কোটি টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিশেষ ক্যাম্পেইন হবে একবার। চতুর্থ পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিনে ৬ লাখ টিকাদানের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে মাসে একবার করে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত ২৮ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত বিশেষ ক্যাম্পেইনে ৮২ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ক্যাম্পেইনের জন্য আরও ৮২ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সিনোফার্মের ৫৫ লাখ ডোজ টিকা এসেছে। যার মধ্যে ৫২ লাখ ডোজ ইতোমধ্যে সব জেলায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।