জয়পুরহাটে জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ ও সার ডিলারশিপ বণ্টনে অনিয়ম এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলিম। এ পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দলের ভেতরে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় দেওয়া ওই পোস্টে ফয়সাল লেখেন, ‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন।’ তাঁর ভাষ্য, গত ছয় মাসে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ করে ‘খাওয়া’ শেষ হয়েছে। এখন আর কিছু নেই, তাই ‘খাওয়া’ স্থগিত হয়ে গেছে। সার ডিলারশিপ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এমনভাবে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের কেউ সুযোগ পাননি। এ ক্ষেত্রে সার ডিলারশিপে আত্মীয়দের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। স্ট্যাটাসের শেষে তিনি লেখেন, ‘আমি তো অবাক নয়নে দেখে যাচ্ছি আমাদের জয়পুরহাটের কী হবে?’
ফয়সাল আলিমের বাবা আব্দুল আলিম ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনে জয়ী হন। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে মানব
তাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্ট্যাটাসের মন্তব্যের ঘরে কেউ ফয়সাল আলিমের সমালোচনা করেছেন, কেউ আবার নতুন অভিযোগ তুলেছেন।
তারিক হোসেন খান নামে একজন মন্তব্যে লেখেন, ‘আরও খাওয়া আছে তো। এখন মেম্বার-চেয়ারম্যান বিক্রি হচ্ছে, ওরা বলছে আসো, সবাই আসো, টাকা দাও, টিকিট নাও।’ এতে স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বা প্রার্থী বাছাইয়ে অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিত রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো তথ্য দেননি।
ফয়সাল আলিমের সমালোচনা করে বেলাল হোসেন মন্তব্যে লেখেন, কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে ফয়সাল আলিমের নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও সামনে আনা উচিত। তাঁর ভাষায়, ‘এ পর্যন্ত যা দেখছি, তা হলো কিছু সস্তা পোস্ট আর কিছু লোক দেখানো ছবি।’ তাঁর মতে, এ ধরনের পোস্টে দলের ভেতরে বিতর্ক, ভাঙন ও কোন্দল তৈরি হচ্ছে।
জিল্লুর রহমান এ ফেসবুক পোস্টকে জামায়াতের প্রচারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে এভাবে লিখলে জামায়াতই সুবিধা পাবে। তিনি আরও দাবি করেন, ফয়সাল আলিমের বক্তব্য ও ‘হিংসার’ কারণে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান পরাজিত হয়েছেন। এ দাবির পক্ষেও তিনি কোনো তথ্য দেননি।