শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত ৬ মন্ত্রণালয়ের বৈঠক সন্ধ্যায়পঞ্চম ধাপে ২৯ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ কালউৎকণ্ঠায় শিক্ষার্থীরা এখন ধৈর্যহারাস্কুল-কলেজ খোলার পরিবেশ পর্যালোচনা সভা শনিবারউন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশ
No icon

মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

আজ ২১ ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। রক্তনের মধ্য দিয়ে ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দিন। বাংলা মায়ের বীর সন্তানরা মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার্থে ১৯৫২ সালের এই দিনে বুকের রক্তে রঞ্জিত করেছিল ঢাকার রাজপথ। সেই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল শনিবার মধ্যরাত থেকেই বিভিন্ন বয়সী অগণিত মানুষ মিলিত হন শহীদ মিনারে। মাতৃভাষার জন্য আত্মদানের এই নজির স্মরণে সবাই কণ্ঠে ধরেন মর্মস্পর্শী সেই গান- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি....।আত্মদানের এই অভূতপূর্ব ঘটনাকে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘও। ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশির উদ্যোগ এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক চেষ্টায় এ সাফল্য আসে। এর পর থেকে বাংলাদেশের পাশাপাশি ইউনেস্কোর ১৯৫টি সদস্য এবং ৯টি সহযোগী সদস্য রাষ্ট্রের ৬ হাজার ৯০৯টি ভাষাভাষী মানুষ যথাযথ মর্যাদায় পালন করছে এই দিবস।দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, যে ভাষার জন্য আমরা জীবন দিয়েছি, তার উন্নয়নে সর্বস্তরে শুদ্ধ বাংলা প্রচলনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে অনেক ভাষাই এখন বিপন্ন। একটি ভাষার বিলুপ্তি মানে একটি সংস্কৃতির বিলোপ, জাতিসত্তার বিলোপ, সভ্যতার অপমৃত্যু। তাই মাতৃভাষা ও নিজস্ব সংস্কৃতির বিকাশসহ সব জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হতে হবে। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ তার বাণীতে বলেন, একুশের পথ ধরেই আমরা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, লাল সবুজের পতাকা ও আত্মপরিচয়ের অধিকার অর্জন করেছি। একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশবাসীকে সব ভেদাভেদ ভুলে দেশমাতৃকার সেবায় কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ভাষা-আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই একটি অসম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ভাষাভিত্তিক জাতিসত্তা/রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের ভিত রচিত হয়। ১৯৫২ সালের এই দিনে আমাদের মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা করতে প্রাণ-উৎসর্গ করেছিলেন আবুল বরকত, আবদুল জব্বার, আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, শফিউর রহমানসহ আরও অনেকে। এই দিনে বাংলাসহ বিশ্বের ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি বাংলাভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেতৃত্বদানকারী সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল ভাষাসৈনিকদের, যাদের দূরদর্শী ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের মা, মাটি ও মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ বাঙালির গৌরবময় ঐতিহাসিক দলিলে ভাষা-আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলো কালে-কালে আমাদের জাতীয় জীবনে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে। এতদাঞ্চলের শান্তিপ্রিয় জনসাধারণের স্বার্থসুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিটি অর্জনের পেছনে রয়েছে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস।