সেন্টমার্টিনে গিয়ে দুই শতাধিক পর্যটক আটকাআফগানিস্তানে মসজিদে বিমান হামলায় নিহত ১২নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার‘তীব্র বাতাসে’ বাংলাদেশের দিকে নিম্নচাপ, মোংলা থেকে ৫৬০ কিমি দূরেদুর্ঘটনা রোধে চালকদের ‘ডোপ’ টেস্ট করাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী
No icon

জাতিসংঘে পাঁচ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেতে পৃথিবীকে রক্ষার জন্য জাতিসংঘে পাঁচ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে পৃথিবী ও নিজেদের রক্ষার জন্য আমি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অবশ্যই জোরালো আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরামর্শ দেব।প্রধানমন্ত্রী গতকাল নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের ৭৫তম সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে জলবায়ুুসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের এক ভার্চুয়াল গোলটেবিল আলোচনায় এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এ প্রস্তাব দেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।তৃতীয় প্রস্তাবে বলেন, দুর্বল দেশগুলোকে প্রতিশ্রুত তহবিল সরবরাহ করতে হবে। চতুর্থ প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, দূষণকারী দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রশমন ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের এনডিসি (জাতীয় নির্ধারিত অবদান) বাড়াতে হবে। পঞ্চম প্রস্তাবে তিনি বলেন, জলবায়ু শরণার্থীদের পুনর্বাসন একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ জানানোয় জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অভিযোজন এবং সহিষ্ণুতার বিষয়ে বিনিময় করার মতো কিছু ধারণা ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রয়েছে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও জল ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রস্তুত করেছি।শেখ হাসিনা বলেন, সরকার দেশে চার হাজার ২৯১টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং ৫২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করেছে। এ ছাড়া যেকোনো ঘূর্ণিঝড়ের আগে প্রস্তুতি সহজ করতে ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, এ জন্য আমরা রিপ (ঝুঁকি-অবহিত আর্লি অ্যাকশন পার্টনারশিপ) উদ্যোগে অংশ নিয়েছি, যার লক্ষ্য ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এক বিলিয়ন মানুষকে বিপর্যয় থেকে নিরাপদ করা। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সিভিএফ (জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত ফোরাম)-এর বর্তমান চেয়ার এবং সম্প্রতি ঢাকায় গ্লোবাল সেন্টার অব অ্যাডাপ্টেশনের আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গোলটেবিল বৈঠকটি আহ্বান করেন এবং এটি পরিচালনা করেন যুক্তরাজ্যের সাংবাদিক ফেমি ওকে। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই বৈঠকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, ইতালির প্রধানমন্ত্রী গিউসেপে কন্তে, চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান তিনেরা ইচেনিক, নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মাহামাদু ইসুফৌ, ফিজির প্রধানমন্ত্রী জোসাইয়া বোরেকি বাইনিমারামা, ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন্ডারলেইন ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ড. লোটে সেরিং এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।