শবে বরাতের ইবাদত সম্পর্কে যা বললেন আল্লামা শফীনা.গঞ্জের মানুষ ছড়িয়ে পড়ছে জেলায় জেলায়ঢাকায় যে ৪৬ এলাকায় করোনা রোগী শনাক্তপ্রাণভিক্ষার আবেদন খুনি মাজেদেরস্পেনে ফের বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা
No icon

শিশু শিল্পী অপর্ণার কণ্ঠে জোয়ান বায়েজের ‘বাংলাদেশ’ গান

যুক্তরাষ্ট্রের মানবতাবাদী সঙ্গীত শিল্পী জোয়ান বায়েজ। ১৯৪১ সালের ৯ জানুয়ারি যার জন্ম নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে। বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে খ্যাতিমান এই শিল্পীর নাম। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী হায়েনারা যখন ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের উপর, তখন বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার জন্যে যেসব বিদেশী বন্ধু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাদের অন্যতম জোয়ান বায়েজ। বাংলাদেশে চালানো গণহত্যার ওপর তিনি লিখেছিলেন একটি অনবদ্য গান। দ্য স্টোরি অব বাংলাদেশ শীর্ষক গানটি তারই কণ্ঠে আলোড়ন তুলেছিল তখন। যুদ্ধবিরোধী এবং সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে বরাবর লড়াই চালিয়ে যাওয়া এই শিল্পী মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যে ভূমিকা রেখেছেন তা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তার গাওয়া কালজয়ী সেই গানটি পরের ১৯৭২ সালে চান্দস মিউজিক থেকে সঙ অব বাংলাদেশ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। সেই অমর গানে মোট ২২ বার বাংলাদেশ শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন জোয়ান বায়েজ।

কিংবদন্তি সেই শিল্পীর বাংলাদেশ গানটিতে এবার কণ্ঠ দিয়েছে নিউইয়র্ক প্রবাসী ১১ বছরের শিশু অপর্ণা আমিন। লং আইল্যান্ডের গোথাম এভিনিউ স্কুলের সিক্সথ গ্রেডের এই শিক্ষার্থীর কণ্ঠে গানটি এরইমধ্যে বেশ প্রশংসা পেয়েছে।

গানটি প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী বন্ধুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ফ্রেন্ডস অব ফ্রিডম। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসকে সামনে রেখে এ নিয়ে একটি মিউজিক ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। যা পরিচালনা করেছেন অপর্ণার বাবা লেখক ও সাংবাদিক শামীম আল আমিন। ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ছিলেন অপর্ণার মা ইয়োগা আর্টিস্ট এবং ফিটনেস এক্সপার্ট আশরাফুন নাহার লিউজা।

এরইমধ্যে জোয়ান বায়েজের বাংলাদেশ গানটি যন্ত্রসঙ্গীতের মাধ্যমে কাভার করেছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী বাপ্পা মজুমদার। শিল্পীর সম্মতি নিয়ে সেই মিউজিকটি ব্যবহার করা হয়েছে অপর্ণার গানে। সব ধরণের সহায়তা দিয়েছেন কানাডা প্রবাসী শিল্পী পাপ্পু আহমেদ, বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী বাবু সরকার এবং সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার ডালিম। মিউজিক ভিডিওটি সম্পাদনা করেছেন তানজির ইসলাম রানা।

গানটির মিউজিক ভিডিওটি চিত্রায়ন করা হয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। সেই সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের আর্কাইভ ফুটেজ।

এ প্রসঙ্গে পরিচালক শামীম আল আমিন বলেন, বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা, সূর্যসেন হল, জগন্নাথ হল এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গানটির জন্য কাজ করেছি। আর নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের টাইমস স্কয়ার, অ্যাস্টোরিয়া পার্কসহ কয়েকটি স্পটে দৃশ্যধারণ করা হয়েছে। আশা করছি কাজটি দর্শকদের মনে দাগ কাটবে।

ফ্রেন্ডস অব ফ্রিডমের সমন্বয়ক শামীম আল আমিন আরও বলেন,মহান শিল্পী জোয়ান বায়েজ জন্মগ্রহণ করেছেন নিউইয়র্কে। সেই সঙ্গে তিনি আমেরিকাতেই তখন গানটি গেয়েছেন। অপর্ণাও নিউইয়র্কে থাকে। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে নিউইয়র্কের কিছু জায়গায় গানটির জন্য দৃশ্যধারণ করা হয়েছে।

ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর আশরাফুন নাহার লিউজা বলেন,এই গানটির মধ্য দিয়ে জোয়ান বায়েজের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে চেয়েছি আমরা। সেই সঙ্গে প্রবাসে বেড়ে ওঠা আগামী প্রজন্মের হৃদয় স্পর্শ করতে চেয়েছি। তাদের জানাতে চাই, বাংলাদেশের প্রতি তাদেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। দেশকে জানতে হবে, ভালোবাসতে হবে

অপর্ণা আমিন জানায়,বাবা মায়ের কাছ থেকে জোয়ান বায়েজের গানটির কথা আমি শুনি। এরপর আগ্রহ নিয়ে গানটা করার চেষ্টা করি। জোয়ান বায়েজ আমেরিকার গ্রেট সিঙ্গার। উনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে হেল্প করার জন্যে গান গেয়েছেন, এজন্যে আমি গর্বিত

অপর্ণা আরও জানায়, আমেরিকায় থাকলেও, আমি বাংলাদেশকে সবসময় খুব মিস করি। দেশের প্রতি আমার যে ডিউটি সেটা কখনোই ভুলে যাবো না আমি।