ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে চীন: ট্রাম্পদুপুরের মধ্যেই দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঝড় ও ভারি বৃষ্টির শঙ্কাপরিমার্জন হচ্ছে ২০২৭ সালের পাঠ্যবই, ফিরছে প্রকৃত ইতিহাস: এনসিটিবি চেয়ারম্যানমধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে চীনের সহায়তার আশ্বাস২২ বছর পর শনিবার চাঁদপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
No icon

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বরাদ্দ বাড়ছে বেশি হারে

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। শীর্ষ ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বাজেট ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রস্তাবিত প্রাক্কলন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তাকে সামনে রেখেই ব্যয় কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির হার অন্য খাতের তুলনায় বেশি থাকছে।অর্থ মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ধারাবাহিকতা রাখা হচ্ছে অবকাঠামো উন্নয়নেও।প্রস্তাবিত প্রাক্কলন অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের ৩১ হাজার ২২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ হাজার ১৮৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো, জেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানির ব্যয় সামাল দিতেই বাজেটে ব্যয় বাড়ানোর এই প্রস্তাব করা হচ্ছে।

এডিপিতেও স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উন্নয়ন বরাদ্দ ১১ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার ৬০৮ কোটি টাকায় উন্নীত হওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এটি হলে বরাদ্দ বাড়বে প্রায় ৭৭ শতাংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে বরাদ্দ বাড়ার এই হার সবচেয়ে বেশি।শিক্ষা খাতেও বড় পরিসরে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য চলতি বাজেটে ৪৭ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হলেও তা বেড়ে ৫০ হাজার ৩০২ কোটি টাকায় দাঁড়াচ্ছে। অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪২ হাজার ১৪৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ বৃদ্ধির হার প্রায় ১৯ শতাংশ।উন্নয়ন বাজেটেও প্রাথমিক শিক্ষায় বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। এডিপিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ১১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকায় উন্নীত হতে পারে, যা প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির তুলনায় সরকারি ব্যয় দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের চেয়ে কম। নতুন এই বরাদ্দ কাঠামো বাস্তবায়িত হলে মানবসম্পদ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ বরাবরের মতোই বেশি বরাদ্দপ্রাপ্ত খাতের মধ্যে রয়েছে। এ খাতে বরাদ্দ ৪২ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪৩ হাজার ১৩০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বরাদ্দ ৩৮ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩৯ হাজার ৭৯ কোটি টাকা হতে পারে।খসড়া প্রস্তাবনা অনুসারে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ বাড়ার হারও উল্লেখযোগ্য। এ খাতে বরাদ্দ ১২ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৮ হাজার ৭৭ কোটি টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগে বরাদ্দ কিছুটা কমতে পারে। চলতি অর্থবছরে ২০ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও পরবর্তী অর্থবছরে তা কমিয়ে ১৯ হাজার ২৪৪ কোটি টাকায় আনার প্রাথমিক প্রস্তাব রয়েছে।গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না; কার্যকর বাস্তবায়ন ও শক্তিশালী তদারকি নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও বলেন, বরাদ্দের অর্থ যাতে অপচয় বা দুর্নীতির মাধ্যমে নষ্ট না হয় এবং যথাযথ খাতে সঠিকভাবে পৌঁছে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ দেশের সব অঞ্চলের বাস্তবতা এক নয়। বর্তমানে শিক্ষার মান নিয়ে সর্বত্রই বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে হলে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন বা শিক্ষক প্রশিক্ষণ যথেষ্ট নয়; শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পঠনপাঠনের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে।