মাদ্রাসার ছাদে নুসরাত হত্যার বর্ণনা দিল রিমান্ডে থাকা ছাত্রী মণিনুসরাতকে নিচ থেকে ছাদে নিয়ে হাত বাঁধে শম্পানুসরাত হত্যায় পুলিশের গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীভারতে প্রকাশ পাচ্ছে আফ্রিদির আত্মজীবনীমূলক বইস্কুলে সন্তানকে নিরাপদ রাখতে কী করবেন?
No icon

অর্থমন্ত্রীর হুশিয়ারি

সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে পদ্মা ব্যাংকের প্রথম বার্ষিক ব্যবসা সম্মেলন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যেসব ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ফেরত দিচ্ছেন না, তাদের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নয়। আমরা অর্থমন্ত্রীর এ মনোভাবকে সাধুবাদ জানাই। একইসঙ্গে আমরা অতীতে চোখ ফেরাতে চাই। অর্থমন্ত্রী যে ব্যাংকটির ব্যবসা সম্মেলন অনুষ্ঠানে এমন মনোভাব প্রকাশ করেছেন, সেটি ২০১৩ সালে ফারমার্স ব্যাংক নামে যাত্রা শুরু করেছিল। পরে ঋণ জালিয়াতির কারণে ব্যাংকটি আর্থিক দুর্দশায় পড়ে এবং এটির পুনর্গঠনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়। আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা যে একটি ব্যাংককে গ্রাস করে ফেলে, সাবেক ফারমার্স ব্যাংক তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

আমরা আরও স্মরণ করতে চাই, খেলাপি ঋণ কমাতে গত ফেব্রুয়ারিতে একটি পরামর্শ সভার আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিন বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডিরা প্রয়োজনে ঋণখেলাপিদের সামাজিকভাবে বয়কট করার পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, ঋণখেলাপিরা ব্যাংকের দায় পরিশোধ করবেন না, অথচ বিলাসী জীবনযাপন করবেন, তা যেন না হয়। আশ্চর্যজনক হল, বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডিরা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায়ে কঠোর আইন প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন যেদিন, ঠিক সেদিনই ঋণ অবলোপনের নীতিমালা শিথিল করে একটি সার্কুলার জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে বলা হয়েছিল, ব্যাংকগুলো মাত্র ৩ বছর পর মন্দমানের খেলাপি ঋণ অবলোপন করে তা ব্যালান্স শিট বা স্থিতিপত্র থেকে বাদ দিতে পারবে। এছাড়া অবলোপন করতে আগের মতো শতভাগ প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) লাগবে না এবং দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অবলোপনে মামলাও করতে হবে না ইত্যাদি। এ থেকে প্রশ্নের উদয় হওয়া স্বাভাবিক- কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেই যদি খেলাপি ঋণ নিয়ে দ্বৈরথে সওয়ার হয়, তাহলে দেশ থেকে এ অপরাধ দূর করা কতটা সম্ভব?

গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৯ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা এবং এর মধ্যে ৮৩ দশমিক ১৬ শতাংশই মন্দমানের। খেলাপি ঋণ না কমে বরং দিন দিন তা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হল, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়া। বস্তুত ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার প্রবণতা এক ধরনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পরিবেশ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।