পার্লামেন্টে মালয়েশিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন: মাহাথিরশ‌র্তের জেরে কমেছে সঞ্চয়পত্রের বিক্রিমুজিববর্ষে মুসলিমবিদ্বেষী মোদিকে বাংলাদেশের জনগণ দেখতে চায় নাএবার ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট করোনায় আক্রান্তবিশ্বের ৮০ শতাংশ ইলিশ আহরণ হচ্ছে বাংলাদেশে
No icon

মাকে হত্যা করতে দেড় লাখ টাকায় খুনি ভাড়া করে মানিকগঞ্জের জ্যোতি

একাধিক বিয়ের পর পছন্দের ছেলের সঙ্গে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় মাকে হত্যার পরিকল্পনা করে মেয়ে জ্যোতি। প্রেমিক নাঈমের সঙ্গে বিয়ের প্রধান অন্তরায় ছিল মা মাহমুদা। এ জন্য পথের কাঁটা দূর করতে গর্ভধারিণী মাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে প্রেমিকের সঙ্গে ডিল ফাইনাল করে মেয়ে জ্যোতি। প্রেমিকের মাধ্যমে তিন ভাড়াটিয়ার সঙ্গে চুক্তি হয় দেড় লাখ টাকা। কিলিং মিশনে যাওয়ার আগে খুনিদের জ্যোতি তার স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১৬ হাজার টাকা দিয়ে দেয়। চুক্তিমতো মঙ্গলবার রাতেই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। বুধবার সকালে জ্যোতির বাবা জহিরুল ইসলাম আলিয়ার যখন প্রাতঃভ্রমণে বাড়ির বাইরে যান। এ সুযোগে গলা টিপে হত্যা করা হয় জ্যোতির মা মাহমুদা বেগমকে।

সোমবার বিকালে মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহমেদের কাছে ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ সব কথা জানায় গ্রেফতারকৃত জ্যোতি, নাইম ও নাঈমের সহযোগী রাকিব।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মানিকগঞ্জ সদর থানার এসআই শামীম আল মামুন জানান, মাহমুদা বেগমকে নিজ ঘরে খাটের ওপর লেপ দিয়ে চেপে শ্বাসরোধে হত্যার পর, জ্যোতিকে হাত, পা, মুখ বেঁধে মাকে হত্যা নাটক সাজায় তারা। কিন্তু একদিনের মাথায়, পুলিশের তদন্তে তা ফাঁস হয়ে যায়।

তিনি বলেন, বুধবার সকালে হত্যাকাণ্ডের সময় বাড়িতে থাকা নিহতের একমাত্র মেয়ে জ্যোতিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই দিনই থানায় ডেকে নেন তারা। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে সে।

বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার দেখিয়ে শুক্রবার বিকালে তাকে মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল আদালতের মানিকগঞ্জ সদরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রেরণ করা হয়।হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে অধিকতর তথ্য আদায়ের লক্ষ্যে আদালতের বিচারকের কাছে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। বিচারক ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শুক্রবার বিকালে নিহতের স্বামী জহিরুল ইসলাম আলিয়ার বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মেয়ে জ্যোতি আক্তার, তার কথিত প্রেমিক নাঈম ইসলাম এবং তার সহযোগী রাকিব ও অন্য ২ সহযোগীর বিরুদ্ধে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ দায়ের করেন।

শুক্রবার রাতে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জ্যোতি আক্তার তার মায়ের হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতেই তার কথিত প্রেমিক কেরানীগঞ্জের আরাকুল গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে নাঈম ইসলাম (২৫) এবং তার সহযোগী একই গ্রামের মৃত আবদুল বারেকের ছেলে রাকিবকে (২৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরও দুই সহযোগীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, জ্যোতির সঙ্গে মোবাইল ফোন-ফেসবুক-ম্যাসেঞ্জারের আলাপচারিতায় ৮ মাস আগে ভোলা জেলার নির্মাণ শ্রমিক নাঈমের সঙ্গে জ্যোতির প্রেমের এবং দৈহিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। তার সঙ্গে বিয়ে দিতে নারাজ হন মা। তাই তিন মাস আগে জ্যোতি ও নাঈম পরিকল্পনা করে তাকে হত্যা করার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতেই নাঈম ও তার ৩ সহযোগী জ্যোতির ঘরে প্রবেশ করে। রাতে কয়েক দফা চেষ্টা করেও হত্যার সুযোগ পায়নি। সকাল ৭টার দিতে জ্যোতির বাবা প্রাতঃভ্রমণে বের হলে তারা মাহমুদা বেগমকে হত্যা করে।