ঢাকায় ১৬ প্লাটুন আনসার মোতায়েনশিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানাল ঢাবি কর্তৃপক্ষআমার বিশ্বাস শিক্ষার্থীরা আদালতে ন্যায়বিচারই পাবেঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকবেআজ সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি
No icon

ঘরে বসে আয়ের প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে অনেক নিরীহ মানুষ

ঘরে বসে আয়ের প্রলোভনে ডিজিটাল ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে অনেক নিরীহ মানুষ। সংসারের বাড়তি খরচ সামলাতে যখন হিমশিম খেতে হচ্ছে, তখন না চাইতেই হঠাৎ করে বাড়তি আয়ের সুযোগ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! চাকরির পাশাপাশি ঘরে বসেই কোনও কাজ করলে বাড়তি আয় করা তো মন্দ নয়। আর চাকরি প্রত্যাশী, শিক্ষার্থী কিংবা গৃহিনীদের জন্য এটা তো অনন্য সুযোগ। তাই যে কেউ-ই এমন প্রস্তাব লুফে নেবেন। এই সহজগম্যতাকে পুঁজি করেই গড়ে উঠেছে প্রতারকচক্র। যারা ঘরে বসে অনলাইনে আয়ের সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে মূলত প্রতারণা করে। এ ধরনের প্রতারণা নতুন না হলেও সম্প্রতি তা বেড়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এ ধরনের প্রতারণা করার ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রতারকরা দেশীয় নম্বরও ব্যবহার করছে। সেক্ষেত্রে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা খুব কঠিন কিছু নয়, তারপরও তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?
সম্প্রতি এমন কল পেয়েছেন, এমন একজনের কথা হয় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। তিনি জানান, তার কাছে প্রথম কলটি আসে ২০২৩ সালে। অনলাইনে ঘরে বসে দিনে ২ হাজার টাকা আয়ের সুযোগ। দুয়েকবার কল কেটে দেওয়ার পরে বন্ধু আড্ডায়, অফিসে কিংবা বাসে একই আলাপ। কল আসে, ইংরেজিতে কথা বলতে চায়, নানা অফার দিয়ে কখনও কখনও বিকাশ নম্বরও চায়। কী হচ্ছে আসলে, এরা কারা? ফোনকলে আসলে প্রতারকরা কী ধরনের কথা বলেন, পাওয়া গেলো একটি ধরনও। একটি কলে বলা হচ্ছে, ‘হ্যালো (নাম), আমিৃ ডিজিটাল মার্কেটিং কোম্পানি থেকে বলছি। আমরা আপনাকে ঘরে বসেই পার্টটাইম চাকরির অফার করতে চাই। আপনার নম্বরটি হোয়াটসঅ্যাপ করা? তাহলে সেখানে লিংক পাঠাই? প্রথম সাবস্ক্রিপশনে ১ হাজার টাকা পরের দিন থেকে দিনে সাত থেকে ১০টি লিংক সাবস্ক্রাইব করবেন, প্রতিটা ১০০ করে। কিংবা আরেকটি কাজ করেও আপনি দৈনিক ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। আপনি কি কাজটি করতে আগ্রহী? যদি আগ্রহী হন তাহলে আমরা আপনাকে এ বিষয়ে বিস্তারিত হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাচ্ছি।’ অনুসন্ধানের জন্য কলদাতাকে পরিচয়, তাদের প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, দিনে কতজনকে এরকম নিয়োগ দেওয়া হয় জানতে চাইলে তিনি কল কেটে দিয়ে ব্লক করে দেন। গত কয়েকমাস ধরে আরও অনেকেই এমন ফোন পেয়েছেন বলে জানা গেছে। কখনও স্ন্যাপটেক ডিজিটাল মার্কেটিং, কখনও আর্চ ডিজিটাল মার্কেটিং কোম্পানির পরিচয়ে এসব ফোনকল পাওয়া যায়। সাবস্ক্রিপশনের বিষয়টি আরও ভয়াবহ। জয়পুরহাটের এক ভুক্তভোগী জানান, একের পর এক কল আসতে শুরু করে। প্রতিবারই ভিন্ন ভিন্ন নম্বর থেকে ফোন আসছে এবং ইংরেজিতে ঘরে বসে ‘পার্টটাইম চাকরি’র লোভনীয় অফার দিচ্ছে। পরে বিরক্ত হয়ে কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করার পর তাকে বিনিয়োগ করতে বলা হয়। সেটা নিয়ে তাকে নানা হুমকিও দিতে শুরু করে চক্রটি।
‘ফিশিং বড় ইন্ডিকেটর, এরপরে বড় হ্যাকিং ঘটবে’ উল্লেখ করে সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট তানভীর হাসান জোহা বলেন, কেবল বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের সব দেশে ফিশিং আছে। আপনি ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা প্রলোভন দিতে থাকবে। আমাদের দেশে এটা বেশি দিনের না। কিন্তু এত ওপেন, এত ঘনঘন এসব হওয়ার পরেও চুপ থাকার কারণে সামনে বড় বিপদ দেখতে পাচ্ছি। প্রলোভন কত ছোট সেটা বিবেচনা করে আমলে না নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এটা থামাতে চাইলে প্রযুক্তির যে কোনও সমস্যাকেই আমলে নিতে হবে। হয়তো ভাবছেন ২-৩ হাজার টাকা গেছে, এ নিয়ে থানা পুলিশ করে কী হবে। মনে রাখতে হবে সামগ্রিকভাবে অনেক টাকা। বাংলাদেশে ফিশিংয়ে লোকাল টেলিটক নন্বর ব্যবহার করা হয়। সেটা কার নামে ব্যবহার হচ্ছে সেটা চাইলেই বের করা যায়। কথা হলো পরিস্থিতির ভয়াবহতা আমরা বুঝতে পারছি কিনা।’ এদিকে পুলিশ বলছে, আকর্ষণীয় বেতনে ঘরে বসে পার্টটাইম বা ফুলটাইম চাকরির প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকাও হারিয়েছেন এই ধরনের অভিযোগও অছে। জানা গেছে, চক্রগুলো সাধারণত প্রথমে অল্প পরিমাণ টাকা দিয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে। পরবর্তী সময়ে তাদের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে অতিরিক্ত সুদসহ অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রলোভন দেখায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান মনে করেন, ‘যারা শর্টকাটে বড়লোক হওয়ার প্রলোভনে পড়ছেন তাদের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।’ এধরনের প্রতারণা হচ্ছে, সবার কাছে কল আসছে, সবাই সব জানার পরেও বন্ধ কেন করা যাচ্ছে না প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যে অভিযোগ আসে তার সবকয়টির মামলা হচ্ছে, গ্রেফতার আছে। অল্প বিনিয়োগে অধিক লাভের লোভে পড়া যাবে না। এধরনের মামলা, অভিযোগগুলো একত্রিত করতে শিগগির সাইবার সাপোর্ট ইউনিট খোলা হবে।’
পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের এডিশনাল ডিআইজি এস এম আশরাফুজ্জামান বলেন, যারা কল করে, তারা একটি অ্যাপ ব্যবহার করে দু-তিন মাসের জন্য। সেখানে যাদের প্রলোভনে ফেলতে পারে তাদের টাকা হাতিয়ে নিয়ে সরে পড়ে। তারা টাকা ডিজিটাল কয়েনে রূপান্তরের মধ্য দিয়ে দেশের বাইরেও পাঠিয়ে দিচ্ছে। তাদের ট্রেস করা সম্ভব হয় না তেমন। তবে তারপরেও সাইবার পুলিশ সেল, সিটিটিসি ও র‌্যাব মিলিয়ে অভিযান হচ্ছে।-সূত্র: বাংলাট্রিবিউন