‘পাকিস্তানকে পানি দেয়া বন্ধ করে দেবে ভারত’আবরার হত্যায় দেশ-বিদেশে গণস্বাক্ষর অভিযান চালাবে ঐক্যফ্রন্টকুয়েটে প্রতি আসনে লড়বেন ১১ জন, পরীক্ষা ১৮ অক্টোবরপাঁচ কেজি চালে ১ কেজি পেঁয়াজ!মানুষের উচিত হবে সরকারকে ঘাড় ধরে বের করে দেয়া: ড. কামাল
No icon

প্রশিক্ষণেই চাকরির সুযোগ দিচ্ছে ‘এসএসএল’

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারের বিশেষ তত্ত্বাবধানে দেশে বৃদ্ধি পাচ্ছে শিক্ষিত জনসংখ্যার হার। শিক্ষিত এ জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা জীবন শেষ করার পরপরই প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কিন্তু কেবল দক্ষতা আর পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে অনেকেই রয়ে যাচ্ছেন বেকার। তাই বাংলাদেশ সরকার বিশাল এই শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে চাকরির বাজারে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন ধরণের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রকল্প চালু করেছে। তারই অংশ হিসেবে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অধীনে স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইআইপি) প্রকল্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে চাকুরীর জন্য বিশেষ সহায়তা দিচ্ছে দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠান সার্ভিস সলুয়েশন লিমিটেড(এসএসএল)। আগ্রহীরা আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এসইআইপি প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৪ সালে শুরু হয়ে ২০২০ সালের মধ্যে ৫ লাখ দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এই প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ৭০ শতাংশের চাকরির সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রশিক্ষণে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ সরকারি খরচে প্রশিক্ষণ প্রদানের এই প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এবং সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। বাজার ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য শিল্পকারখানার বিদ্যমান চাহিদার আলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সরকার ৯টি অগ্রাধিকার শিক্ষা খাত নির্ধারণ করেছে। এই অগ্রাধিকার খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিল্প। প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নিয়ে যেমন তারা হয়ে উঠছে দক্ষ এবং প্রশিক্ষণ পরবর্তী চাকরির সুযোগ নিয়ে দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী হয়ে উঠছে কর্মদক্ষ। আর এই শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে সম্পদে পরিণত করতে দেশের বিজনেস প্রসেস আউট সোর্সিং (বিপিও) প্রতিষ্ঠানগুলো অনন্য ভূমিকা পালন করছে। যার মধ্যে সার্ভিস সলুয়েশন লিমিটেড(এসএসএল) অন্যতম।

২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এ শিল্পে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ও ৪৫ হাজার জনগোষ্ঠীকে চাকরির সুযোগ করে দিয়েছে এবং এ শিল্পের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার আয় ও ১ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে প্রকল্পটির কার্যক্রম। কিন্তু এই বিপিও শিল্পেও রয়েছে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তির অভাব। তাই সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের অন্যতম শিল্পখাত বিপিও শিল্পে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এসইআইপি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউট সোর্সিং (বাক্কো) তার সহযোগী বিপিও প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বেশকিছু প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করছে। যার মধ্যে অন্যতম প্রফেশনাল কাস্টমার সার্ভিস কোর্স, প্রফেশনাল ব্যাক অফিস সার্ভিস কোর্স ও ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং আউটসোর্সিং কোর্স অন্যতম।

কোর্সগুলো সম্পর্কে কথা হয় বাক্কোর সেক্রেটারি জেনারেল তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, অগ্রসরমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে চাকরি প্রার্থীদের দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। শিক্ষিত তরুণ ও সদ্য উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা চাকরি সন্ধানকারীদের চাকরির বাজার নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য অবশ্যই প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত। আর সরকারের এসইআইপি প্রকল্পে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি চাকরির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে দেশের উন্নয়নে অংশীদার হওয়ার সুযোগ রয়েছে তরুণদের জন্য। এসএসএল অনেক বছর ধরে সরকারের এসইআইপি প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশে বিপিও শিল্পে দক্ষ জনবলের চাহিদা পূরণ করে আসছে। চাইলে যে কোনো উচ্চশিক্ষা সম্পন্নকারী তরুণ-তরুণী এসএসএল এ বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।

যেকোন বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর অথবা ডিপ্লোমা (৪ বছর মেয়াদী) গ্র্যাজুয়েটরা এ প্রশিক্ষণ নিয়ে চাকরির সুযোগ পেতে পারেন। এ জন্য আগ্রহীরা শনিবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে সপ্তাহের যোকোন দিন সকাল ৯টা থেকে ৬টার মধ্যে সরাসরি এসএসএল এর অফিসে উপস্থিত হয়ে আবেদন এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

উচ্চতর প্রবৃদ্ধির জন্য দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইআইপি) প্রকল্প শিল্পের চাহিদা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে কর্মক্ষম শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, আশা করা যায় তা দেশের অনিরুদ্ধ অগ্রগতির অগ্রযাত্রায় অবদান রাখবে। দক্ষ ও শিক্ষিত-প্রশিক্ষিত মানবসম্পদে গড়ে উঠবে বাংলাদেশে, যেখানে পরাভূত হবে দারিদ্র্য, নির্মিত হবে একটি মানবিক কল্যাণকামী, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।