দেশে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ৭৮ জনের মৃত্যুআন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ মঙ্গলবার রাত থেকে'লকডাউন' সোম-মঙ্গলবারও কার্যকর১৪ এপ্রিল থেকে সাধারণ ছুটির ঘোষণা আসতে পারেরাজধানীতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দুই এলাকা
No icon

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সতর্ক আশাবাদ

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো শুরু হতে পারে চলতি বছরই। আসছে এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। চীনের মধ্যস্থতায় গতকাল মঙ্গলবার মিয়ানমারের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এ আশার কথা জানান। তার ভাষায়, তিনি সতর্কভাবে আশাবাদী& /> তবে অন্য সময়ের চেয়ে মঙ্গলবারের বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে মিয়ানমারকে অনেক বেশি ইতিবাচক মনে হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, বৈঠকে মধ্যস্থতার ভূমিকায় থাকা চীনও বাংলাদেশের যুক্তিগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। এ কারণে তিনি রোডম্যাপ অনুযায়ী বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কম সংখ্যায় হলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে আশাবাদী। গতকাল বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা থেকে সাড়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

মিয়ানমারের পক্ষে সে দেশের একজন উপমন্ত্রী এবং চীনের পক্ষে একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট অংশ নেন। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব জানান, বৈঠকে প্রত্যাবাসন রোডম্যাপ বাস্তবায়নে ছয়টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হবে। সচিব বলেন, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এ বৈঠক অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। বৈঠকে মূল আলোচনার বিষয় ছিল রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন। এতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সংকট দিন দিন জটিল হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পর নিরাপদ বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি নিয়ে আলোচনা হয়। মিয়ানমার রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম তুলে ধরে। এরপর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র সচিব জানান, রোডম্যাপ অনুযায়ী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর রূপরেখা তৈরির জন্য বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে-

১. আসছে ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ-মিয়ানমার ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠকেও চীন মধ্যস্থতা করবে। আগে ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট অনুবিভাগের মহাপরিচালক এবং মিয়ানমার ও চীনের রাষ্ট্রদূতরা অংশ নিতেন। আগামী ওয়ার্কিং গ্রুপটি আরও বিস্তৃত পরিসরে হবে। তিন দেশেরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট মহাপরিচালকরা অংশ নেবেন। ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকেই প্রত্যাবাসনের মূল রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।

২. ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের পর সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনার জন্য তিন দেশের সচিব পর্যায়ের বৈঠক হবে। বৈঠকটি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে কিংবা সশরীরে হতে পারে। বৈঠকের স্থান হতে পারে ঢাকা বা কক্সবাজার। তবে বৈঠকটি বেইজিংয়ে করার আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। বৈঠকের স্থান পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত করা হবে।