জাতীয় নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ছয় মাসের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দলের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি সরকার। সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মগুরুদের সম্মানি প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ মার্চ তাঁর নির্বাচনি এলাকা রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদান কর্মসূচি’ উদ্বোধন করেন। সারা দেশের কৃষকের জন্য ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মগুরুদের সম্মানি প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। একই দিনে আরও ৫৪ জেলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। খুব শিগগিরই হেলথ কার্ড বিতরণের কাজও শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।
জানা যায়, সরকার গঠনের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বেশির ভাগ বৈঠকে এসব নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কোন মন্ত্রণালয় কী কাজ করবে, তার বিস্তারিত জমা দেওয়া শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-এমপিরা। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘নির্বাচনি ইশতেহারের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। তবে তার মধ্যেও অধিক জনস্বার্থনির্ভর বিষয়গুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে কিছু কাজ বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। তার মধ্যে রয়েছে নারীদের ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, রমজানে দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। এ ছাড়া খাল খনন কর্মসূচি, কৃষি কার্ড, হেলথ কার্ড প্রদানসহ আরও বেশ কিছু বিষয় রয়েছে।’ মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে ১০ মার্চ দেশের বিভিন্ন জেলায় ৩৭ হাজার নারীপ্রধান পরিবারকে এ কার্ড দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবারের কর্ত্রীকে এ ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।’ এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রথামতো সরকারের ১০০ দিনের কী কী অগ্রাধিকার থাকবে, সেগুলো নির্ধারণ করতে হয়।
আমরা ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছি। তার মধ্যে প্রাথমিকভাবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা, পণ্য সরবরাহ চেন সচল রাখা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যাতে কোনো সংকট সৃষ্টি না হয় সেদিকে ব্যবস্থা নেওয়া, ঈদে মানুষের বাড়ি যাওয়া-আসার বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ রাখাই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। এসব বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে।’ একই বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমাদের দলের পক্ষ থেকে যখন রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা উপস্থাপন করা হয়, তখন কথা ছিল জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ-সংক্রান্ত স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের বিষয়ে খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করা আছে। নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দুর্নীতি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থেকে এসব বিষয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনি ইশতেহারে যেসব অঙ্গীকার করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরুর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।’ ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে এককভাবে ২১১টিতে জয় পায় দলটি। এর পাঁচ দিন পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী এবং আরও ৪৯ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। সংসদের প্রথম দিনে মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম স্পিকার এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।