নির্বাচনের আগে প্রশাসনে আরেক ধাপ পদোন্নতিসমরাস্ত্র তৈরির নতুন যুগে বাংলাদেশ১২ ফেব্রুয়ারি ‘ভোট ডাকাতি’ হতে দেবে না জনগণ: তারেক রহমানভোটের তিনদিন যানবাহন চলাচলে কঠোরতা আরোপ ইসি’র জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে আর পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি থাকবে না: শফিকুর রহমান
No icon

১২ ফেব্রুয়ারি ‘ভোট ডাকাতি’ হতে দেবে না জনগণ: তারেক রহমান

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ভোট ডাকাতি হতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা ফেরার পথে গাজীপুরে ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।রাত ১২টায় গাজীপুরের রাজবাড়ী মাঠের মঞ্চে উঠার পর তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখ ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। কখন যাবেন? ফজর নামাজ পড়ে নয়, যার যার ভোট কেন্দ্রের সামনে গিয়ে জামাতে ফজর পড়বেন। যাতে আগে থেকে ওখানে কেউ অবস্থান নিতে না পারে।তিনি বলেন, কেউ ষড়যন্ত্র করে আগেই যাতে কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে বসে না থাকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। গত ১৫/১৬ বছর আপনারা দেখেছেন কিভাবে এই এলাকারসহ সারা বাংলাদেশে আপনাদের যে ভোটের অধিকার সেই অধিকারকে কিভাবে ডাকাতি করে নিয়ে গিয়েছিল? এবার ডাকাতি করতে দেবেন? ভোট ডাকাতি হতে দেবেন? ভোট ডাকাতি করতে দেবেন না।

তারেক রহমান বলেন, এই গাজীপুরের মানুষ কিন্তু প্রমাণ করে দেখিয়েছে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় এই গাজীপুর থেকে হাজার হাজার মানুষ সেদিন ঢাকা শহরে গিয়েছিল। কাজেই এই যে আমাদের গণতন্ত্রকে যে পুনরুদ্ধার করেছে, স্বাধীনতাকে যে আবার রক্ষা করেছে গাজীপুরের মানুষের বিরাট একটা অবদান আছে।কাজেই এই অবদানকে কোনভাবেই বৃথা দিতে যাওয়া যাবে না। গাজীপুরবাসীর কাছে আমার হক আছে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান নিজের শিশুকালের কথা স্মরণ করে বলেন, আপনাদের কাছে আমার একটা হক আছে। এই সেই গাজীপুর, এই সেই ভাওয়াল মাঠ যেখানে স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে ছোটবেলায় আমি এই মাঠে অনেক দৌঁড়াদৌড়ি করেছি, এই মাঠে অনেক খেলেছি। এই মাঠের ওইখানে রাজবাড়ী বোধহয় এইদিকে না। ঠিক রাজবাড়ীর উল্টা দিকে ওখানে ছোট ছোট দুইটা লাল রঙের বাংলো ছিল আগে। প্রথম যেই বাংলোটা ছিল এখানে মুরুব্বি যারা আছেন তাদের খেয়াল আছে। প্রথম যেই বাংলোটা ছিল ওইটাতে আমরা থাকতাম আব্বা, আম্মা, আমি আর আমার ছোট ভাই আমরা চারজন ওটাতে থাকতাম। কাজেই ছোটবেলাটা আমার এই গাজীপুরের এই জায়গায়টায় কেটেছে আমার। কাজেই গাজীপুরের মানুষ কাছে আমারও একটি হক আছে, ওই হিসেবে আপনাদের কাছে আমারও দাবি থাকলো ধানের শীষকে জয়যুক্ত করবেন যোগ করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, আন্দোলন হয়েছে সংগ্রাম হয়েছে, স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে দেশ থেকে। এখন হচ্ছে দেশ গড়ার পালা, এখন হচ্ছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার সময়।কাজেই আমাদেরকে পরিশ্রম করতে হবে, আমাদেরকে কাজ করতে হবে, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, আমরা যদি কাজ করি, আমরা যদি পরিশ্রম করি, ইনশাআল্লাহ ধীরে ধীরে আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।এ সময় গাজীপুর- ১ আসনের মজিবুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনের এম মনজুরুল করীম রনি, গাজীপুর-৩ আসনের এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-৪ আসনের শাহ রিয়াজুল হান্নান এবং গাজীপুর-৫ আসনের ফজলুল হক মিলনকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদেরকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।গাজীপুরে আরও নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড,শিল্প-প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, গাজীপুরে যানজট নিরসনে জয়দেবপুর রেল ক্রসিংয়ের ওপরে ফ্লাইওভার নির্মাণ, গাজীপুরের খাল খনন, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান প্রভৃতি পরিকল্পনা তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীদের জন্য ভোট চান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ;/আমার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষকে বিজয় করতে হবে। ধানের শীষের প্রার্থীদেরকে যদি জয়যুক্ত করা হয় তাহলে এই যে খাল খননের কথা বললাম, এদেরকে যদি জয়যুক্ত করা হয় তাহলে যে ফ্লাইওভারের কথা বললাম, এদেরকে যদি জয়যুক্ত করা হয় তাহলে শ্রমিকদের আবাসনের কথা বললাম এই সবগুলো কাজ করা যাবে।মহানগর সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে এম মঞ্জুরুল করিম রনি ও চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় জেলার পাঁচ প্রার্থী ছাড়াও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল,কেন্দ্রীয় নেতা বেনজীর আহমেদ টিটো, হুমায়ুন কবির খান, মাজহারুল আলম, ওমর ফারুক শাফিন, খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, মোতালেব হোসেন, হুমায়ুন কবির সরকার, আবু তাহের মুসল্লী, সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনসহ নেতারা বক্তব্য রাখেন।এরপর রাত ১টায় উত্তরার ঈদগাহ মাঠে সর্বশেষ নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। সেখানে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীরকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য উত্তরাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।