পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আজ শুরু হতে যাওয়া ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তীব্র অনাস্থা প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের ওপর ‘পুরোপুরি অবিশ্বাস’ নিয়ে তারা আলোচনায় বসছেন।
ইরানি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, সম্প্রতি জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুলের সঙ্গে এক আলাপকালে আরাগচি এই মন্তব্য করেন। ওয়াশিংটনের অতীতের নানা কর্মকাণ্ডকে ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ’ ও ‘কূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান তার দেশের জনগণের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় পুরো শক্তি দিয়ে লড়বে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে ইসলামাবাদের হাই-প্রোফাইল এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা হ্রাস এবং যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য নিয়ে দুই দেশ টেবিলে বসলেও ইরানের এই কঠোর অবস্থান আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে।
ইসলামাবাদে চলমান ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার শুরুতেই বড় ধরনের অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে আলোচনার জন্য একটি ‘ইতিবাচক সংকেত’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে যে, এই সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার শর্তের সঙ্গে যুক্ত। মূলত এটিই ছিল চলমান আলোচনার অন্যতম প্রধান এবং জটিল ইস্যু।
অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে, কাতারের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন (৬০০ কোটি) ডলার ছাড় দিতে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন বা কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মূলত দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির লভ্যাংশ। ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে এই অর্থ আটকে যায়। ২০২৩ সালে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এক বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় এই অর্থ কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তখন শর্ত ছিল, এই অর্থ কেবল খাদ্য ও ওষুধের মতো মানবিক কাজে ব্যয় করা যাবে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু হলেও ওই বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর জো বাইডেন প্রশাসন পুনরায় এই অর্থ স্থগিত করে দেয়। দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকার পর এবার ইসলামাবাদ আলোচনার টেবিলে সেই জট খোলার ইঙ্গিত পাওয়া গেল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের এই সিদ্ধান্ত ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় বরফ গলার প্রথম ধাপ। যদি এই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াটি মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা হ্রাস এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সাফল্য আসতে পারে।
দূষিত বায়ুর শহরের তকমা বহু বছর ধরেই লেগে আছে রাজধানী ঢাকার নামের সঙ্গে। ২০২৫ সালেও বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত বাতাসের রাজধানীর খেতাব পেয়েছে এই মহানগরী। ৯ হাজার ৪৪৬টি শহরের মধ্যে দূষণে ঢাকার অবস্থান ছিল ৩২তম। তবে
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা। বর্তমানে বিশ্ব গণমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে এই সংলাপ। উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠককে কেন্দ্র করে জোরদার করা হয়েছে ইসলামাবাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল না পৌঁছালেও ইরানের প্রতিনিধি
যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। শুক্রবার রাতে তারা ইসলামাবাদে পৌঁছান। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে
তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবের ওপর ইসলামাবাদের বৈঠকে আলোচনা হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও তাদের ১৫ দফা তুলে ধরবে। তবে আলোচনায় বসার আগে বিপত্তি বেঁধেছে ইরানের দেওয়া মিত্রদের সুরক্ষা -সংক্রান্ত শর্ত নিয়ে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্র। আর এ কারণেই ওয়াশিংটন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে বেছে নেয় এবং দেশটিকে ইরানের সঙ্গে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি করাতে চাপ দেয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) প্রতিবেদন থেকে




