পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় একটি গির্জার উদ্বোধন অনুষ্ঠান চলাকালীন একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে ভাঙচুর এবং পুরোহিত ও পুণ্যার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার বাসন্তী থানা এলাকার নারায়ণতলায়। সেখানে গির্জার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশপ সুব্রত চক্রবর্তীসহ একাধিক পুরোহিত ও ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।
রবিবার প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল গির্জা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে উপস্থিত সবার ওপর হামলা চালায় বলে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগে বলা হয়েছে, নারীদের ওপরও হামলা চালানো হয় এবং তাঁদের পরা সনাতনী 'শাঁখা' (সাদা চুড়ি) খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়ে প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেওয়া হয়।’
অভিযোগ অনুযায়ী, আক্রমণকারীরা গির্জার ভেতরের ক্রুশ ভাঙচুর করে, পুরোহিত ও ভক্তদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং যাঁরা ঘটনার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেছিলেন, তাঁদের মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে সেখানে ধর্মীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখারও হুমকি দেয় বলে ভক্তরা অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যেই এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
খ্রিষ্টানদের অধিকার রক্ষা সংগঠন 'বঙ্গীয় খ্রিষ্টীয় পরিসেবা' (বিসিপি) এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি একে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভয় দেখানোর এক চক্রান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা রাজ্য সম্পাদক ও কার্যকরী সভাপতি হেরোড মল্লিক বলেন, গির্জার মতো একটি পবিত্র স্থানে বিশপের উপস্থিতিতে পুরোহিত দের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত নজিরবিহীন একটি ঘটনা। যেখানে বিশপের উপস্থিতিতেই এমন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুষ্কৃতকারীরা একাধিক পুরোহিতকে পিটিয়ে আহত করেছে।’প্রশাসন ও সরকারের নীরবতার সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, সুসংগঠিত দলগুলো ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে এবং আইন নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ না থাকায় এই আক্রমণকারীরা এতোটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, একটি প্রতিষ্ঠিত গির্জার পুরোহিতদের নির্যাতন করতেও তারা দ্বিধাবোধ করছে না।’
এই ঘটনার কিছুদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় তিনটি খ্রিষ্টান পরিবার পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করতে একদল লোক তাদের ভয়ভীতি ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে। প্রায় ১৮ মাস আগে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করা এই পরিবারগুলোকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছিল বলেও তারা জানায়।
বাসন্তীর এই গির্জায় হামলার ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করার কথা জানায়নি। ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।