→ ভারতীয় হাইকমিশনের সতর্কতা সচেতনতা সপ্তাহ শুরু→ কক্সবাজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৬ কোটি টাকার রিসোর্ট→ ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে জিতে নিলেন বিশ্বসেরার মুকুট→ যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ→ চট্টগ্রামে লরিচাপায় নিহত ৫
No icon

ট্রাম্পের মাথাব্যথার কারণ কে এই মুসলিম প্রার্থী এল সাইদ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন মিশিগানের তরুণ ডেমোক্র্যাট নেতা ড. আব্দুল এল সাইদ। নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি হবেন মার্কিন সিনেটের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সদস্য। তবে তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা ঠেকাতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাকে প্রকাশ্য জনসভায় ‘জিহাদি’ আখ্যা দিয়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংযোগের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। প্রশ্ন উঠেছে—কে এই আব্দুল এল সাইদ, যাকে নিয়ে স্বয়ং ট্রাম্পের এত মাথাব্যথা?

জন্ম ও বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন

১৯৮৪ সালে মিশিগানের রচেস্টার হিলসে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুর রহমান মোহাম্মদ এল সাইদ। তার মা-বাবা ছিলেন মিসরীয় অভিবাসী। অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখে তিনি জনস্বাস্থ্যের ওপর পিএইচডি এবং চিকিৎসাবিদ্যায় এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রথাগত চিকিৎসাসেবায় সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি গবেষণায় মনোনিবেশ করেন এবং মর্যাদাপূর্ণ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারিবিদ্যা (এপিডেমিওলজি) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে অধ্যাপনা শুরু করেন।

প্রশাসনিক সাফল্য ও জনপ্রিয়তা

২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান এল সাইদ। তিনি ছিলেন দেশটির কোনো বড় শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বকনিষ্ঠ পরিচালক। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে তিনি ওয়েন কাউন্টি স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব নেন। সিনেট নির্বাচনে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে গত বছর তিনি এ পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

নির্বাচনি প্রচারণায় সাধারণ আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস, আবাসন সংকট সমাধান এবং সবার জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের মতো বাস্তবমুখী প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। বিশেষ করে তরুণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির কাছে তার অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে এগিয়ে থাকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিবিরে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের আক্রমণ ও ‘জিহাদি’ তকমা

মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে আয়োজিত জনসভায় ট্রাম্প নিজের দলের প্রার্থীর প্রশংসা করার চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করেন এল সাইদকে আক্রমণ করতে। তিনি অভিযোগ করেন, এল সাইদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং তিনি সিনেটর হলে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তার গোপন তথ্যের নাগাল পেয়ে যাবেন। এল সাইদকে মার্কিন সিনেটে যাওয়া থেকে যে কোনো মূল্যে ঠেকানোর আহ্বান জানান ট্রাম্প।

ট্রাম্পের আক্রমণের মুখে সাইদের দৃঢ় জবাব

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের জবাবে এল সাইদ মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমার নামের প্রথম অংশ ‘আব্দুল’ নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগছেন। অথচ তার জামাতার ব্যবসায় শত শত কোটি ডলার ঢালা সৌদির মুসলিম নাম নিয়ে ট্রাম্পের কোনো আপত্তি থাকে না। কাতার থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ উপহার পেলেও তিনি বিচলিত হন না।’

ট্রাম্পকে উপহাস করে এল সাইদ আরও বলেন, ‘ট্রাম্প আমার নাম ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারেন কি না, তা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। কারণ নভেম্বরের নির্বাচনের পর তিনি আমাকে অনায়াসেই ‘সিনেটর’ বলেই ডাকতে পারবেন।’

এদিকে, ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা ড. আব্দুল এল সাইদকে ঘিরে মিশিগানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ সাধারণ আমেরিকান অভিবাসীদের মধ্যেও বিপুল উদ্দীপনা ও সমর্থনের জোয়ার তৈরি হয়েছে।