সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে আগামীকালপাকিস্তানের হাসপাতালে আগুন, ১৫ নবজাতকের মৃত্যুযুক্তরাষ্ট্রের ৯০০ পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ কানাডার২৮ সেপ্টেম্বর থেকে আবার হামের টিকা পাবে শিশুরাআজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
No icon

২০ চীনা যুদ্ধবিমান, ব্যয় ২৬ হাজার কোটি টাকা

চীন থেকে চতুর্থ প্রজন্মের ২০টি জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনার জন্য চুক্তির খসড়া তৈরি করেছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের এই উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে বিএনপি সরকার। ২ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ২৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে এতে। আট অর্থবছরে দাম পরিশোধ করা হবে। ১০টি বিমান ঘাটতি পূরণে (টিওঅ্যান্ডই) কেনা হবে। বাকি ১০টি বিমান কেনা হবে বিমানবাহিনীর নতুন স্কোয়াড্রন গঠনে।সরকারের বিভিন্ন সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে  । প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, চীন থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে সরকার।নথি সূত্রে জানা গেছে, ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিমানবাহিনীর চিঠিতে যুদ্ধবিমানগুলোর ব্যয় এবং প্রশিক্ষণ-পরিবহন সরঞ্জামের খরচ সম্পর্কে জানানো হয়। প্রতিটি যুদ্ধবিমানের দাম ৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার।

প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসেবে প্রতিটি বিমানের দাম পড়বে ৭৭১ কোটি টাকা। ২০টি বিমানের জন্য খরচ হবে ১২৫ কোটি ৬২ লাখ ডলার বা সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা। ২০টি বিমান পরিচালনার প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় অপারেশন সরঞ্জামের জন্য খরচ হবে ৮৮ লাখ ৮৩ হাজার ডলার। ছয়টি খাতে এই ব্যয় হবে।অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বলা হয়েছিল, ২০২৫-২৬ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই চুক্তিটি বাস্তবায়ন হবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাম্প্রতিক নথি সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শুরু হয়ে ২০৩৪-৩৫ অর্থবছর পর্যন্ত এই ক্রয় প্রক্রিয়া চলবে। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে হবে। প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ছয়টি জে-১০ চায় বাংলাদেশ। বাকি ১৪টি পরবর্তী সময় ধাপে ধাপে আসবে।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বিমান ক্রয়ের কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাবনা মূল্যায়ন করছে বিমানবাহিনী। যুদ্ধবিমান ছাড়াও অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, দূরপাল্লার রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম ও প্যাসিভ ডিফেন্স সিস্টেম কেনার কারিগরি মূল্যায়ন চলছে।

নথি সূত্রে জানা গেছে, জে-১০ এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার ক্রয়ে গঠিত কমিটি নেগোসিয়েশন বৈঠকের মাধ্যমে খসড়া চুক্তিপত্র তৈরি করে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পাঠিয়েছে। চুক্তি সাপেক্ষে বিমানবাহিনীর নতুন মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট ইউনিট গঠন করা হবে। এয়ার ওয়ারফেয়ার সেন্টার, ফিল্ড ইউনিট, বিমানবাহিনী ঘাঁটি পুনর্গঠন করা হবে। অ্যারোস্পেস গবেষণা ও উন্নয়ন কমপ্লেক্স স্থাপনের কিছু কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিমানবাহিনীর উড্ডয়ন ও পরিচালন কার্যক্রম সম্প্রসারণে বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটি স্থাপনে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে।নথিতে বলা হয়েছে, চীন থেকে সরকার টু সরকার (জিটুজি) পদ্ধতি অথবা চীনের যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল অ্যারো-টেকনোলজি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্টের (সিএটিআইসি) সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে ২০টি যুদ্ধবিমান কেনা হবে। গত বছরের ৫ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকার এই ক্রয় প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল।গত বছরের অক্টোবরে তৎকালীন সরকার চীন থেকে যুদ্ধবিমান কেনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। তবে তখন স্পষ্ট করা হয়নি সরাসরি নাকি জিটুজি পদ্ধতিতে কেনা হবে। সাম্প্রতিক নথিতে জানা গেছে, জিটুজি পদ্ধতিতে কিনবে বাংলাদেশ।বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে যুদ্ধবিমান কেনার কথা জানিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের যুক্তি ছিল, বাংলাদেশের যুদ্ধবিমানগুলো পুরোনো। আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় কার্যকর কি না, সন্দেহ রয়েছে।পেহেলগাঁও হামলার পর গত বছর মে মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায় ভারত। চার দিনের এই যুদ্ধে পাকিস্তান চীনের তৈরি জে-১০সিই বিমান ব্যবহার করে। ২০১০ সালে চুক্তির পর ২০২০ সালে এই মডেলের যুদ্ধবিমান পেয়েছে পাকিস্তান।

সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকা ভারত গত বছরের যুদ্ধে জে-১০-এর প্রতিরোধ ও হামলায় অভাবনীয় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। ফ্রান্সের তৈরি রাফালের মতো আধুনিক ও ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমান হারায় ভারত। জে-১০-এর তুলনায় রাফাল অন্তত তিন গুণ দামি। পাকিস্তান চীনের কাছ থেকে কত দামে প্রতিটি জে-১০ যুদ্ধবিমান কিনেছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে দেশটির সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বিমান ৪ থেকে ৫ কোটি ডলারে কেনা হয়েছিল। ভারত ২০১৬ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে প্রতিটি রাফাল অস্ত্রসহ ২৪ কোটি ডলারে কিনেছিল।যুদ্ধে জে-১০ ব্যবহার করে ৩ থেকে ৪টি রাফালসহ ভারতের ছয়টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সিএনএনের খবর অনুযায়ী, ১ থেকে ৪টি রাফাল হারিয়েছে ভারত। ভারত সংখ্যা প্রকাশ না করলেও জানিয়েছিল, বৈমানিকরা নিরাপদে ফেরত আসেন।পাকিস্তানের এই সফলতার পর কয়েকটি দেশ চীনের জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে। বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ২০১৬ সাল থেকে যুদ্ধবিমান কেনার চেষ্টা করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের সময় চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহ দেখায়নি। ফ্রান্সের তৈরি রাফাল, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ইউরোফাইটার টাইফুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬ কেনার আলোচনা হয়েছিল।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সফরে ঢাকায় এসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ২০২১ সালে শেখ হাসিনার ফ্রান্স সফরে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন রাফালের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দাসোল্ট এভিয়েশনের প্রধান নির্বাহী।শব্দের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উড়তে সক্ষম জে-১০সিই যুদ্ধবিমান আক্রমণ এবং প্রতিরক্ষা উভয় কাজে ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশের বর্তমান যুদ্ধবিমানের সবই প্রতিরক্ষামূলক। হামলা চালানোর মতো বিমান নেই বাংলাদেশে।ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং বিমানবাহিনীতে কাজ করা সাবেক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জে-১০সিই তুলনামূলক ছোট রানওয়ে ব্যবহার করে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে। দ্রুতগতিতে গতিপথ পরিবর্তন করে হামলা এবং প্রতিরোধ করতে পারে, অন্য যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আকাশে লড়াইয়ে যা অপরিহার্য। শত্রুবিমানকে ফাঁকি দিতে পারে জে-১০সিই। ক্ষেপণাস্ত্রকেও ফাঁকি দিতে পারে। রাফাল এবং জে-১০সিই উভয়েই ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। কিন্তু রাফালের চেয়ে জে-১০-এর রাডার শক্তিশালী।প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার বলেছেন, জে-১০সিই এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনতে দরকষাকষি বৈঠকের জন্য খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করেছে সরকারের কমিটি। ভারত-পাকিস্তানে যখন যুদ্ধ হয়েছিল, ভারতের রাফাল ভূপাতিত হয়েছিল; এবং তা করেছিল চীনের জে-১০— এই তথ্য এখন প্রতিষ্ঠিত।তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, রাফালকে বলা হয় ৪.৫ প্রজন্মের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। এর সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে জে-১০সিই খুবই ভালো করেছে। ফলে বিমানটি নিয়ে বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে। চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার ও ইউএভি সিস্টেম সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।