→ ঢাকার আকাশ মেঘলা থাকবে, বৃষ্টি নিয়ে যা জানা গেল→ সংবিধান সব ধর্মাবলম্বীর নিরাপত্তা দিতে বাধ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী→ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, অফিস খোলা আজ→ দুর্গাপূজা-লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আখাউড়া স্থলবন্দর সাত দিন বন্ধ→ অফিসার্স ক্লাব থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ উদ্ধার
No icon

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে সুরক্ষায় চাপে যুক্তরাষ্ট্র: রিপোর্ট

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে সামরিকভাবে সহায়তা দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো। দেশটির এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা পেন্টাগনকে সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ওয়াশিংটনকে ভবিষ্যতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা এবং নিজস্ব সামরিক স্বার্থের মধ্যে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও অন্যান্য মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের (ইইউসিওএম) প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ সম্প্রতি পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন না করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের ওপর চাপ আরও বাড়বে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় মার্কিন নৌবাহিনীর এইজিস যুদ্ধব্যবস্থাসমৃদ্ধ ডেস্ট্রয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব জাহাজ থেকে এসএম-৩ ও এসএম-৬ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। তবে একই সঙ্গে এই যুদ্ধজাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য কৌশলগত দায়িত্বেও ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে একাধিক অঞ্চলে একযোগে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মূল্যায়নের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ২০০টির বেশি থাড (THAAD) ইন্টারসেপ্টর এবং নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে ১০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইসরায়েলও নিজস্ব অ্যারো ও ডেভিডস স্লিং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে, তবে সবচেয়ে তীব্র হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভর করতে হয়েছে।

এদিকে মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করেছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, থাড ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক, পাশাপাশি টমাহক, এসএম-৩, এসএম-৬ এবং অন্যান্য নির্ভুল অস্ত্রেরও বড় অংশ ব্যবহৃত হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং নির্ভুল অস্ত্র প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দ্রুত ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো পুনরায় উৎপাদনে দীর্ঘ সময় ও বিপুল ব্যয় প্রয়োজন হয়। ফলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চললে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল একই সময়ে বিশ্বের একাধিক অঞ্চলে সংকট মোকাবিলার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই সক্ষমতার বাস্তব সীমাবদ্ধতা সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হওয়া সত্ত্বেও একাধিক ফ্রন্টে দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া এবং মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়া এখন ওয়াশিংটনের জন্য ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তথ্যসূত্র: দ্য ডন