ফ্যাসিস্ট পতনের আন্দোলনের মিত্রদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজযে কারণে আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফুটবলারদের ধাক্কাধাক্কিসাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে ঢাকার চিঠিনড়াইলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যাসেনা মোতায়েনের বিধান চায় ইসি, প্রার্থিতায় নতুন শর্ত
No icon

দিল্লিতে সংসদ চলোর ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পরীক্ষা পদ্ধতিতে দুর্নীতি ও প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে সংসদ অভিমুখে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিলে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে দেশটির দাঙ্গা পুলিশ। আজ সোমবার (২০ জুলাই, ২০২৬) ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের একটি যুব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক আন্দোলনের ডাকে এই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ১০ হাজারেরও বেশি আন্দোলনকারী এই বিক্ষোভে অংশ নেন, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বড় বড় পরীক্ষাগুলোতে একের পর এক প্রশ্ন ফাঁস এবং কারিগরি ত্রুটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর মোড়ে জড়ো হয়ে সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দাঙ্গা পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে ও টিয়ারশেল (কাঁদানে গ্যাস) ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

আন্দোলনের নেপথ্যে ‘ককরোচ পার্টি’:
২০২৬ সালের মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি একটি মামলার শুনানির সময় বেকার যুবকদের একাংশকে উপহাস করে ‘তেলাপোকা’ বা ‘ককরোচ’ এর সাথে তুলনা করেছিলেন। এরপরই ব্যঙ্গাত্মকভাবে এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আত্মপ্রকাশ ঘটে। খুব দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ায় (যেমন ইনস্টাগ্রামে প্রায় ২৩ মিলিয়ন ফলোয়ার) এই আন্দোলন বিশাল জনপ্রিয়তা পায় এবং ভারতের ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা ও তীব্র বেকারত্বের বিরুদ্ধে যুবসমাজের ক্ষোভের প্রধান প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।

উত্তেজনার কারণ:
গত শনিবার তিন সপ্তাহ ধরে অনশনে থাকা প্রখ্যাত ৫৯ বছর বয়সী পরিবেশ ও শিক্ষা আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ জোরপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি করলে আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়। আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঠেকাতে নয়াদিল্লির একাংশে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন এবং ৫ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা (সরাসরি ১৪৪ ধারার সমতুল্য আইন) জারি করা হয়। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে রাজীব চকসহ ৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।

সংসদেও উত্তাপ:
আজ থেকে ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংসদের ভেতরেও বিরোধী দলীয় সাংসদেরা এই ইস্যু নিয়ে তীব্র হট্টগোল করেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে রাজ্যসভায় বলেন, "হাজার হাজার শিক্ষার্থী যন্তর মন্তরে জড়ো হয়েছিল। সরকার বলপ্রয়োগ করে তাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে।"

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোদী সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বান জানানো হলেও তাদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট—শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।