→ ঢাকার আকাশ মেঘলা থাকবে, বৃষ্টি নিয়ে যা জানা গেল→ সংবিধান সব ধর্মাবলম্বীর নিরাপত্তা দিতে বাধ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী→ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, অফিস খোলা আজ→ দুর্গাপূজা-লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আখাউড়া স্থলবন্দর সাত দিন বন্ধ→ অফিসার্স ক্লাব থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ উদ্ধার
No icon

বাণিজ্যিক তথ্য চুরির অভিযোগে ওপেনএআই’র বিরুদ্ধে অ্যাপেলের মামলা

গোপন বাণিজ্যিক তথ্য ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক হার্ডওয়্যার ব্যবসা এগিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ওপেনএআই ও অ্যাপলের দুই সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল আদালতে করা মামলায় ওপেনএআইয়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক শাখা ওপেনএআই গ্রুপ পিবিসি এবং সম্প্রতি অধিগ্রহণ করা আইও প্রোডাক্টসের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলায় অ্যাপলের দুই সাবেক কর্মী চ্যাং লিউ ও ট্যাং ইউ ট্যানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। চ্যাং লিউ অ্যাপলের সাবেক সিনিয়র সিস্টেমস ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং ট্যাং ইউ ট্যান প্রতিষ্ঠানটির আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচ বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রোডাক্ট ডিজাইন) ছিলেন।

অ্যাপলের অভিযোগ, সাবেক এই কর্মীরা চাকরি ছাড়ার আগে প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং তা ওপেনএআইয়ের হার্ডওয়্যার প্রকল্প এগিয়ে নিতে ব্যবহার করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ওপেনএআই পরিকল্পিতভাবে সাবেক অ্যাপল কর্মী নিয়োগ, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অন্যান্য উপায়ে অ্যাপলের অভ্যন্তরীণ তথ্য সংগ্রহ করেছে।

মামলার নথিতে অ্যাপল অভিযোগ করেছে, চ্যাং লিউ চাকরি ছাড়ার সময় কোম্পানির দেওয়া ল্যাপটপ ফেরত দেননি। পরে একটি নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে তিনি অ্যাপলের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেন এবং হার্ডওয়্যার-সংক্রান্ত গোপন নথি ডাউনলোড করেন।

অন্যদিকে, ট্যাং ইউ ট্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, ওপেনএআইয়ে যোগ দেওয়ার আগে তিনি অ্যাপলের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, পণ্য উন্নয়ন এবং শিল্পসংক্রান্ত বিভিন্ন গোপন তথ্য নিজের ব্যক্তিগত ই-মেইলে পাঠিয়েছিলেন। অ্যাপলের দাবি, এসব তথ্য ওপেনএআইয়ের হার্ডওয়্যার উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ওপেনএআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের গোপন বাণিজ্যিক তথ্য ব্যবহারে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। মানুষের উপকারে আসে—এমন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি তৈরিতেই প্রতিষ্ঠানটি মনোযোগী বলে দাবি করেছে তারা।

প্রযুক্তি খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মামলা শুধু তথ্য চুরির অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভবিষ্যতের এআই ডিভাইসের বাজার নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়েরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ওপেনএআই সফটওয়্যারের পাশাপাশি নিজস্ব হার্ডওয়্যার পণ্য তৈরিতে এগিয়ে যাচ্ছে, যা অ্যাপলের আইফোন-কেন্দ্রিক ব্যবসার জন্য নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে।

পিপি ফোরসাইটের বিশ্লেষক পাওলো পেসকাতোরে বলেন, অ্যাপল এখন ওপেনএআইকে শুধু অংশীদার হিসেবে নয়, সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও দেখছে। একই সঙ্গে ওপেনএআইও আইফোনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

২০২৪ সালে অ্যাপল তাদের ডিভাইসে ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ প্রযুক্তি যুক্ত করার ঘোষণা দেয় এবং আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাকে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের সুবিধা চালু করে। এর মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব তৈরি হয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। গত বছর ওপেনএআই সাবেক অ্যাপল ডিজাইনার জনি আইভ প্রতিষ্ঠিত হার্ডওয়্যার স্টার্টআপ ‘আইও প্রোডাক্টস’ প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলারে অধিগ্রহণ করে। এর মাধ্যমে ভোক্তাদের জন্য নতুন ধরনের এআই ডিভাইস তৈরির পরিকল্পনা আরও জোরদার করে প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যাপলের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওপেনএআইয়ের হার্ডওয়্যার পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে দুই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বও আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তথ্যসূত্র: রয়টার্স