→ ঢাকার আকাশ মেঘলা থাকবে, বৃষ্টি নিয়ে যা জানা গেল→ সংবিধান সব ধর্মাবলম্বীর নিরাপত্তা দিতে বাধ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী→ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, অফিস খোলা আজ→ দুর্গাপূজা-লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আখাউড়া স্থলবন্দর সাত দিন বন্ধ→ অফিসার্স ক্লাব থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ উদ্ধার
No icon

সুদানের আল-উবাইদে তীব্র হচ্ছে ড্রোন হামলা

সুদানের গৃহযুদ্ধ ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল-উবাইদ শহরে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলমান সংঘাতের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে শহরটি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ড্রোন হামলায় আল-উবাইদে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বাড়ছে। শহরটিতে অবরোধের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

উত্তর কর্দোফান রাজ্যের রাজধানী আল-উবাইদ বর্তমানে সুদানের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের এই শহরে দেশটির অন্যতম বড় সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত। তবে আরএসএফের ধারাবাহিক ড্রোন হামলা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে সেনাবাহিনী।

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা একলেডের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে আল-উবাইদে ২৭টি ড্রোন হামলা হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর এক মাসে সর্বোচ্চ। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক জানিয়েছেন, জুনের প্রথম তিন সপ্তাহে ১৫টি ড্রোন হামলায় অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন।

একটি জ্বালানি স্টেশনে ড্রোন হামলার শিকার হওয়া এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জানান, হামলার পর ঘটনাস্থলে শুধু রক্তাক্ত মানুষ, পুড়ে যাওয়া গাড়ি ও ধ্বংসস্তূপ দেখা গেছে। হামলায় শরীরে স্প্লিন্টারের আঘাত নিয়ে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রতিটি হামলার পর হাসপাতালে আহত মানুষের ভিড় বাড়ছে। অনেকেই গুরুতর আহত হয়ে হাত-পা হারাচ্ছেন। এক চিকিৎসক জানান, একটি সাত মাসের শিশুর হাত কেটে ফেলতে হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকেও আল-উবাইদ শহরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহরটি আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত পশ্চিমাঞ্চল ও সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে রাজধানী খার্তুমের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

অন্যদিকে, আরএসএফ উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক থেকে আল-উবাইদকে প্রায় অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। দীর্ঘদিনের এই অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের শহর ছাড়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড সতর্ক করে বলেছেন, আল-উবাইদের পরিস্থিতি পশ্চিম দারফুরের আল-ফাশির শহরের মতো ভয়াবহ পরিণতির দিকে যেতে পারে। এর আগে আল-ফাশিরে অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনায় জাতিসংঘ গণহত্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল।

তবে আরএসএফ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই অভিযান পরিচালনা করছে এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

এদিকে, অব্যাহত ড্রোন হামলা ও অবরোধের কারণে আল-উবাইদে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট তীব্র হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে জ্বালানি স্টেশন, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানির ট্যাংকারগুলোকে বেছে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যুৎ সংকটে শহরের পানির পাম্পগুলো বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাস্তুচ্যুত প্রায় এক লাখ মানুষ এই শহরে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তথ্যসূত্র : বিবিসি