সবার আগে বিশ্বকাপের নকআউটের টিকিট পেল মেক্সিকোশান্তির পথে তবু অনিশ্চয়তাযুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, চুক্তিতে অনুমোদন মোজতবা খামেনিরঅভিনেতা জাহের আলভী কারাগারেশ্রীপুরে ৬৮০ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ
No icon

শান্তির পথে তবু অনিশ্চয়তা

দীর্ঘ কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাত, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উদ্বেগের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং-এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেন। এর মধ্য দিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের অবসানের পথ তৈরি হয়েছে।তবে যুদ্ধ থামানোর এই সমঝোতা যতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন এটি কি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির ভিত্তি গড়তে পারবে, নাকি অচিরেই নতুন সংকটের মুখে পড়বে?

ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে জি-৭ সম্মেলন-পরবর্তী নৈশভোজে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উপস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, এখনই স্বাক্ষর করলাম।একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে বলেন, দুই দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মাধ্যমে দলিলটি চূড়ান্ত হয়েছে।এর আগে ধারণা করা হয়েছিল সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের উপস্থিতিতে একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। তবে শেষ পর্যন্ত তা প্রয়োজন হয়নি।পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক -এ স্বাক্ষর করেন। পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা টেলিফোনে আলোচনায় এ চুক্তিকে আঞ্চলিক শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।প্রকাশিত ১৪ দফা সমঝোতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত প্রধান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

করবে। ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদকে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে ডাউন-ব্লেন্ড বা নিম্ন সমৃদ্ধ পর্যায়ে রূপান্তর করবে। পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক চুক্তির জন্য আলোচনা চলবে। চূড়ান্ত চুক্তি হলে আঞ্চলিক দেশগুলোর সহায়তায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল গঠনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে। যুদ্ধ চলাকালে কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। লেবানন ফ্রন্টেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, পুনর্গঠন তহবিলে ওয়াশিংটন সরাসরি অর্থ দেবে না।ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে শুরু হওয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক হামলা চালায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।

বিপুল পরিমাণ মার্কিন গোলাবারুদ ব্যবহার এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারত। পরিস্থিতির এই বাস্তবতা ট্রাম্প প্রশাসনকে সমঝোতার দিকে এগিয়ে যেতে বাধ্য করেছে বলে অনেক পর্যবেক্ষকের ধারণা।তেহরান চুক্তিটিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরছে। গালিবাফ বলেছেন, জনগণ দলিলটি দেখবে এবং বিচার করবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, এই চুক্তির ফলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা ইরানিরা নিজেদের পরিচয়ে গর্ব অনুভব করছেন।লেবাননের হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমও সমঝোতাকে মহান বিজয় বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা ইরানের বড় সাফল্য।তবে চুক্তিটি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সিনেটর বিল ক্যাসিডি একে দশকের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতি বিপর্যয় বলে মন্তব্য করেছেন। তার অভিযোগ, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাক্সক্ষা বাস্তবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি; বরং তারা শিখে গেছে যে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করলে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় দিতে বাধ্য করা যায়। নর্থ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসও বলেছেন, প্রকাশিত শর্তগুলোকে তিনি ভালো চুক্তি বলার মতো যথেষ্ট মনে করেন না।