প্রথমবারের মতো একসঙ্গে বসছে ইরান ও সৌদি আরবমাদ্রাসার ছাদে নুসরাত হত্যার বর্ণনা দিল রিমান্ডে থাকা ছাত্রী মণিনুসরাতকে নিচ থেকে ছাদে নিয়ে হাত বাঁধে শম্পানুসরাত হত্যায় পুলিশের গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীভারতে প্রকাশ পাচ্ছে আফ্রিদির আত্মজীবনীমূলক বই
No icon

সরে যেতে হলো সুদানের অভ্যুত্থানের নেতাকেও

সুদানের ৩০ বছরের শাসক ওমর আল-বশিরকে সরিয়ে দেয়ার সামরিক কাউন্সিলের প্রধান হওয়া আওয়াদ ইবনে আউফকে ক্ষমতা গ্রহণের একদিন পরেই পদত্যাগ করতে হলো। শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি ঘোষণায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন সামরিক কাউন্সিলের প্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আওয়াদ ইবনে আউফ। গত বৃহস্পতিবার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে গ্রেফতার করা হয় এবং সামরিক পরিষদের প্রধান হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন আওয়াদ ইবন আউফ। নতুন অস্থায়ী সরকারের নেতৃত্বে থাকা আওয়াদ ইবনে আউফ জানান, দুই বছরের মধ্যে দেশটির সংবিধানে পরিবর্তন আনা হবে। তবে এই সামরিক পরিষদকে আগের সরকারেরই অংশ হিসেবে ঘোষণা করে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা জনপথ ছাড়তেও অস্বীকৃতি জানায়।

বিক্ষোভকারী এবং সেনাবাহিনীর মুখোমুখি অবস্থানে নতুন করে সহিংসতা বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী এবং মিলিশিয়ারা একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিতে পারে বলেও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন।

বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে ক্ষমতা গ্রহণের একদিন পরেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন আওয়াদ ইবনে আউফ। সামরিক বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আবদেল রাহমান বুরহানকে তার উত্তরসূরি ঘোষণা করা হয়েছে।

সামরিক কাউন্সিলের প্রধান বশিরের ঘনিষ্ঠ দাবি করে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোর পরই তিনি পদত্যাগ করেন। সেনাবাহিনী দাবি করছে, তারা ক্ষমতায় থাকতে চায় না এবং সুদানের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে আন্দোলনকারীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী।

দারফুর সংঘাতের সময় ইবন আউফ ছিলেন সুদানের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান। ওই যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বশিরকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

১৯৮৯ সালে ক্ষমতায় আসেন বশির। তারপর থেকে গত ৩০ বছর ধরে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। গত ডিসেম্বরে দেশটির বাজারে তেল ও জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্ষোভ শুরু করে সাধারণ মানুষ।

তাদের এই বিক্ষোভ ক্রমান্বয়ে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলন চলার সময় অন্তত ৩৮ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।