তিনদিনেও রিমান্ডে নেয়া যায়নি প্রদীপ-লিয়াকতকেএবার রেডিওতে প্রাথমিকের পাঠদান সম্প্রচারএ মৌসুমে আর বন্যা হবে নাহাসপাতালে ‘অভিযান’ চালানোর বিপক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রীওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রীর সম্পদের অনুসন্ধানে দুদক
No icon

বাড়িভাড়া ওঠে না খালিও থাকে, রাজধানীর আড়াই লাখ বাড়িওয়ালা সংকটে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য রসুলপুরের দুই স্বামীহারা বাড়িওয়ালা খাদিজা বেগম ও হাসিনা বেগম করোনাকালে মহাসংকটে পড়েছেন। ৮৬৬ নম্বর বাড়ির মালিক খাদিজা বেগম। তিনটি টিনশেড ঘরের একটিতে তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন, ভাড়া দেওয়া অন্য দুটি ঘরের আয় দিয়ে সংসার চালাতেন। দুই মাস হলো ভাড়াটিয়ারা বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। নতুন ভাড়াটিয়া পাননি। একমাত্র আয়ের পথ বাড়িভাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিশাহারা তিনি। একই এলাকার ৮৬৫ নম্বর বাড়ির মালিক হাসিনা বেগম। দোতলা বাড়ির নিচতলায় দুই মেয়ে নিয়ে বসবাস করেন তিনি। দোতলার ভাড়া দিয়ে সংসার ও দুই মেয়ের পড়াশোনা চালাতেন। গত মাসে ভাড়াটিয়া বাসা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন। এখন কিভাবে সংসার চলবে, কী দিয়ে মেয়েদের পড়াশোনা চালাবেন সেই দুশ্চিন্তায় দিন যাচ্ছে হাসিনা বেগমের। তিনি বলেন,ভাড়াটিয়া নেই, আয় বন্ধ; কিন্তু সিটি করপোরেশনের ট্যাক্সসহ সব পাওনা তো দিতে হচ্ছে।

ঢাকা শহরে চার ধরনের বাড়ির মালিক রয়েছেন। অধিক ধনী ও ধনী লোকেরা অভিজাত এলাকায় জমি ক্রয় করে এক বা একাধিক বাড়ির মালিক হয়েছেন। মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা তাঁদের সারাজীবনের সঞ্চিত অর্থে অল্প পরিমাণ জায়গা কিনে বাড়ি নির্মাণ করেছেন, কারো কারো ব্যাংক ঋণ নিতে হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে কিছু লোক সরকারের কাছ থেকে জায়গা বরাদ্দ পেয়ে বাড়ি করেছেন। আরেকটি শ্রেণি পারিবারিক সূত্রে জায়গার মালিক হয়ে বাড়িওয়ালা হয়েছেন। এ ছাড়া এমন কিছু বাড়ি তথা ফ্ল্যাটের মালিক আছেন যাঁরা বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে জায়গা দিয়ে নিজেরা কিছু ফ্ল্যাট পেয়ে তা ভাই-বোনের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন।সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা শহর ছেড়ে অনেক ভাড়াটিয়া গ্রামসহ অন্যত্র চলে যাওয়ায় সংকটে আছেন মধ্যবিত্ত শ্রেণির দুই লাখ ৪০ হাজার বাড়িওয়ালা। তাঁদের বাড়ির ভাড়াটিয়ারা ছিলেন মধ্যবিত্ত। বেশির ভাগই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা লোক। চাকরি হারিয়ে তাঁরা বাসা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন বা রাজধানীর আশপাশে কম ভাড়ায় বাসা নিয়েছেন।