বিমানবন্দর উড়ানোর ছক ছিল জঙ্গিদেরহামলাকারীরা সবাই দেশের : শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী‘প্রধানমন্ত্রীকে দেখলেই দাদু বলে জড়িয়ে ধরত জায়ান’শ্রীলংকায় আবারও কারফিউ জারিশ্রীলঙ্কায় নিহত শেখ সেলিমের নাতির লাশ আসবে কাল
No icon

‘সড়ক সংস্কার সবার প্রাণের দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে এটা কেউ বুঝিয়ে বলুক’

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা শামস আরা স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে বৃহস্পতিবার আসাদগেট সিগন্যালে এসেছিলেন। মেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছে। শামস আরা বললেন, ‘জানেন, ফেসবুকে ছেলে-মেয়ে দুটোর রক্তাক্ত ছবি দেখেই আমার নিজের মেয়ের কথা মনে হয়েছে। আমার মেয়েও তো এভাবেই গাড়ি-রিকশার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। এভাবে কখন কী হয়ে যায় কে জানে?’ শামস আরা আরও বলেন, আপনি জিজ্ঞেস করে দেখেন, ঢাকার গণপরিবহনের সংস্কার সব মানুষের প্রাণের দাবি। এখন প্রধানমন্ত্রী বা সরকার যদি এটাকে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি হিসেবে দেখেন, তাহলে সেটা আমাদের চরম দুর্ভাগ্য। তিনি বলেন, যে কারণে মেয়ে যখন বিক্ষোভে যুক্ত হতে চাইল, তখন নিজেই নিয়ে এলাম। তা ছাড়া এ দেশে থাকতে হলে ওকে যে যুদ্ধ করতে হবে, ওর সেই বোধ গড়ে দিতে চাই।

সদ্য এইচএসসি পাস করা নুসরাত জাকিয়াকে দেখা গেল হলুদ প্ল্যাকার্ড হাতে, যাতে লেখা-‘ডিজিটাল বাংলাদেশ চাই না, সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই। বাঁচতে দাও।’ নুসরাতের সঙ্গে তাঁর মা শিউলি আক্তারও এসেছেন। তিনি বললেন, সড়ক এভাবে অনিরাপদ থাকলে ছেলেমেয়েরা চলবে, পড়বে কীভাবে? আর একটা ছেলে বা মেয়ে বাসার বাইরে গেলে অভিভাবকদের কী পরিমাণ টেনশনে থাকতে হয়, তা অভিভাবক মাত্রই জানেন। একেকটা ছেলে-মেয়েকে নিরাপদে স্কুল-কলেজে আনা নেওয়া করতে অনেকে গাড়ি কেনেন। এত খরচ তো সবাই করতে পারে না।

দ্বিতীয় ও শিশু শ্রেণির দুই সন্তানের মা খুরশীদা জাহান নিজেই একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে শিক্ষার্থীদের জমায়েতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল-‘আমি একজন মা, সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে চিন্তামুক্ত থাকতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘মানুষের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। সড়ক সংস্কার যে আপামর মানুষের প্রাণের দাবি, সেটা প্রধানমন্ত্রীকে কেউ বুঝিয়ে বলুক।’ 

দুই ছেলেকে নিয়ে আসা বাবা ফজলুল হক অনেক কথা বললেন। এক দিনেই যে সব ঠিক হয়ে যাবে না, সে ভাবনার কথাও বললেন তিনি। তাহলে সমাধান কী জানতে চাইলে বললেন, ‘দেখেছেন বাচ্চারা কী চমৎকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছে। পুলিশের সাহায্যকারী হিসেবে স্কুল-কলেজের স্কাউট বা বিএনসিসির ছেলে-মেয়েদের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগানোর কথা কিন্তু সরকার ভাবতেই পারে। অন্তত শিশু-কিশোরদের সামনে নিশ্চয়ই পুলিশ ঘুষ খেয়ে আনফিট গাড়ি, অদক্ষ চালকদের ছেড়ে দেবে না। আবার সেনাবাহিনীকেও এ কাজে লাগানো যেতে পারে। ওয়ান ইলেভেনের সময় ঢাকার ট্রাফিক অনেক সহনীয় ছিল। গত ১০ বছরে পুলিশ যে ঢাকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে, তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই।’