সৌদি আরব ভ্রমণে নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্রবৃষ্টি কমে বাড়ছে গরমপ্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন দুপুরে১৪ মাস পর ডলার বিক্রি শুরু করল বাংলাদেশ ব্যাংকবিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম
No icon

জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৬০ কোটি ঘনফুট

জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এক দিনের ব্যবধানে সরবরাহ ২৬ দশমিক ০৭ কোটি ঘনফুট বেড়ে মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় দাঁড়ায় ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুটে। গ্যাসের প্রাপ্যতা বাড়ায় শিল্প-কারখানায়ও স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হয়েছে। অন্য শিল্পাঞ্চলেও ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ছে। ব্যবসায়ী নেতারা আশা করছেন, আজ (গতকাল) রাত থেকে আগামীকালের মধ্যে অধিকাংশ শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ আরও বাড়বে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বাসসকে জানান, মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় জাতীয় গ্রিডে মোট ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রাপ্যতা বৃদ্ধিতে দেশীয় উৎসের উৎপাদন এবং আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় করে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পেট্রোবাংলার তথ্যানুযায়ী, গতকাল বিকাল ৪টায় সরবরাহ করা মোট গ্যাসের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে এসেছে ১৬১ দশমিক ৫ কোটি ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে সরবরাহ হয়েছে ৯৯ দশমিক ১ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের মোট সরবরাহের বড় একটি অংশই এসেছে দেশি উৎপাদন থেকে। এর পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণে সহায়তা করা হচ্ছে।পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প, সার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে গ্যাস সরবরাহের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।পেট্রোবাংলার সূত্র অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে গত সোমবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল ২৩৪ দশমিক ৫৩ কোটি ঘনফুট। আগের দিন রবিবার সরবরাহ ছিল ২৩৩ দশমিক ১৯ কোটি ঘনফুট।

গতকাল বিকাল ৪টায় ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট সরবরাহের ফলে আগের দিনের তুলনায় সরবরাহ বেড়েছে ২৬ দশমিক ০৭ কোটি ঘনফুট। আর রবিবারের তুলনায় বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪১ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে উল্লেখযোগ্য বেড়েছে।জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনে সরবরাহ বাড়ায় শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হয়েছে। অন্য শিল্পাঞ্চলেও ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ছে। ব্যবসায়ী নেতারা আশা করছেন, আজ রাত (গতকাল) থেকে আগামীকালের মধ্যে অধিকাংশ শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ আরও বাড়বে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বাসসকে বলেন, আজ গ্যাসের সরবরাহ ক্রমাগত বাড়ছে। জাতীয় সঞ্চালন পাইপলাইনে ইতোমধ্যে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে পরিস্থিতি আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ অনেক বেড়েছে। তবে দীর্ঘ সময় কম চাপ থাকার কারণে উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার গ্রাহকের কাছে স্বাভাবিক চাপে গ্যাস পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে। আজ (গতকাল) রাত অথবা আগামীকাল ভোরের মধ্যে অধিকাংশ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত সোমবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলে জানান। এ ঘোষণার পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। এরই মধ্যে আজ শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হয়েছে। ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের সঠিক চিত্র আগামীকাল সকালে শিল্প মালিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সকাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিভিন্ন জোনের কারখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া তথ্য নিয়মিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জানানো হচ্ছে।