স্পেনে দুই ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিহত ২১সংকট কাটাতে এলপিজি আমদানির অনুমতিভোটের মাঠে টিকে আছেন ২২৬৭ প্রার্থীকারাগারে ভোটে আগ্রহী ৬,২৪০ বন্দি, নিবন্ধন করেনি ৭৮ হাজারসাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী আজ
No icon

ভোটের মাঠে টিকে আছেন ২২৬৭ প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে ভোটের মাঠে ফিরেছেন ৪২২ জন প্রার্থী। বিপরীতে আপিল করেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি ২১২ জন। তবে আপিলে ব্যর্থ প্রার্থীরা চাইলে উচ্চ আদালতে যেতে পারবেন। উচ্চ আদালতের রায়ই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনের আপিলে হারলেও প্রার্থিতার সুযোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি। আপিল শুনানি শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৬৭ জন। এতে প্রতি আসনে গড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী থাকছেন ৭.৫৫ জন।আপিল শুনানির শেষ দিন গতকাল রবিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন চার নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা। শেষ দিনে ৬৫টি আপিলের শুনানি হয়। এর মধ্যে ২৩টি আবেদন মঞ্জুর, ৩৯টি নামঞ্জুর এবং ৩টি আবেদন অপেক্ষমাণ রাখা হয়। টানা ৯ দিনের আপিল শুনানি শেষে মোট ৪২২ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান।এর আগে যাচাই-বাছাইয়ে নির্বাচন কমিশন ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে। তাদের মধ্যে ৬৪৫ জন প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেন। আপিলে হেরে যাওয়া ২১২ জন প্রার্থী এখন উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। বর্তমানে ৩ জনের আবেদন কমিশনের বিবেচনায় অপেক্ষমাণ রয়েছে।

আপিল শুনানির শেষ দিনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রার্থিতা ফিরে পান। তার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের আবেদন করেছিলেন একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক। একই দিনে বিএনপির দুই প্রার্থীর আপিল নামঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশন। তারা হলেন চট্টগ্রাম-২আসনের সারোয়ার আলমগীর ও কুমিল্লা-১০ আসনের আবদুল গফুর ভূঁইয়া। এর আগে শনিবার কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি। এ নিয়ে বিএনপির তিনজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থী আপিলেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি। চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী ডা. ফজলুল হকের আপিল আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। আপিলে দলগতভাবে জাতীয় পার্টির (জাপা) সর্বোচ্চ ৪২ জন প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।এদিকে আপিল শুনানিকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। এ দিন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে আগারগাঁও এলাকায় বিক্ষোভ ও অবরোধের ঘটনা ঘটে। রবিবার ছিল আপিল শুনানির শেষ দিন।

এ দিন নির্বাচন কমিশনের বিশেষ বিবেচনায় খাগড়াছড়ি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা প্রার্থিতা ফিরে পান। নির্ধারিত এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। খাগড়াছড়ি আসনে তিনি একমাত্র নারী প্রার্থী। দুর্গম এলাকা হওয়ায় প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহে বাস্তব জটিলতা বিবেচনায় নিয়ে, ভোটার সমর্থনের ঘাটতি ৮৭ শতাংশ থাকলেও নির্বাচন কমিশন নিজস্ব ক্ষমতায় বিশেষ বিবেচনায় তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে।আপিল শুনানি শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। পরদিন বুধবার চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক বরাদ্দের পর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ৫১টি দলের ২ হাজার ৯০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন ৪৭৮ জন। মোট প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৬৯ জন। তবে একটি সংগঠনের ব্যানারে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় একজনের মনোনয়ন বাতিল হলে মোট প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৬৮ জন।