লোডশেডিং কমাতে ফার্নেস অয়েলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোররাজধানীতে বাসায় ঢুকে যুবককে গুলিকুষ্টিয়ায় পানিবন্দি ৪০ গ্রামের মানুষবিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে সড়কে ঝরল ৪ প্রাণসৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি হুতিদের, ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থাপনা
No icon

লোডশেডিং কমাতে ফার্নেস অয়েলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর

বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনে। এতে দৈনিক আড়াই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি)।দেশের চাহিদা মেটাতে সরকার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দিকে ঝুঁকছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বাড়তি চাহিদা জোগান দিতে পূর্বপরিকল্পনার অতিরিক্ত ফার্নেস অয়েল আমদানি করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।পিডিবি ও বিপিসি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি (সেপ্টেম্বর) মাসের শুরুতে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে (আইপিপি) পুরোনো পাওনা পরিশোধের জন্য ছয় হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। এতে নিজস্ব উদ্যোগে ফার্নেস অয়েল আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলছে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। পিডিবির চাহিদা অনুযায়ী বিপিসি ৩৫ দিনে ফার্নেস অয়েলের সাতটি পার্সেল আমদানি করছে।

তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আইপিপিগুলো আমদানি করে নিজেরা। অনেকে পিডিবির মাধ্যমে বিপিসি থেকে তেল নিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখে। বিপিসি আমদানির মাধ্যমে চাহিদামাফিক পিডিবিকে তরল জ্বালানি সরবরাহ করে। তবে বিগত বছরগুলোতে চাহিদা দিয়েও পিডিবি ফার্নেস অয়েল না নেওয়ায় বিপাকে পড়তে হয় বিপিসিকে।২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পিডিবি এক চিঠিতে ২০২৬ সালের জন্য মাসওয়ারি ফার্নেস অয়েলের চাহিদা দিয়ে চিঠি দেয় বিপিসিকে। ওই চিঠিতে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য আট লাখ ২৬ হাজার ২শ টন ফার্নেস অয়েলের চাহিদা দেওয়া হয়।

এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য চাহিদা রয়েছে ৮৮ হাজার ২৯৮ টনের। কিন্তু চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পিডিবির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আফরোজা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য দুই লাখ চার হাজার টনের ফার্নেস অয়েলের সংশোধিত চাহিদা দেয়। এতে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে ফার্নেস অয়েলের সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে বিপিসি।এর আগে গত ২১ আগস্ট বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে ফার্নেস অয়েলনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে দৈনিক গড়ে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।পিডিবির ৭-৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আগের তিনদিনে রাত ৯টায় পিক আওয়ারে ১৭শ ৭১ থেকে ২৫শ ৬১ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। এর মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন বলছে, ৮ সেপ্টেম্বর পিক আওয়ার রাত ৯টায় ডিমান্ড ছিল ১৭ হাজার ৮৫৫ মেগাওয়াট। ওই সময়ে পিডিবির ৯ জোনে লোডশেডিং হয়েছে ১৭৭১ মেগাওয়াট।

এর মধ্যে ঢাকা জোনে সর্বোচ্চ ৪৪৭ মেগাওয়াট, ময়মনসিংহ জোনে ৩৭৬ মেগাওয়াট, খুলনা জোনে ৩০৭ মেগাওয়াট, কুমিল্লা জোনে ২৯০ মেগাওয়াট, সিলেট জোনে ১৪২ মেগাওয়াট, রাজশাহী জোনে ১১৮ মেগাওয়াট, রংপুরে ৭৬ মেগাওয়াট, বরিশালে ১২ মেগাওয়াট এবং চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন ৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন বলছে, আগের দিন ৭ সেপ্টেম্বর সারাদেশে দুই হাজার ৫৬১ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। ওইদিন ঢাকায় লোডশেডিং হয় সর্বোচ্চ ৬৯৬ মেগাওয়াট। ৬ সেপ্টেম্বর সারাদেশে ২১শ ১০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের কথা বলেছে পিডিবি। এর মধ্যে ঢাকায় সর্বোচ্চ ৮১৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।