ঈদে মিলাদুন্নবীতে বন্ধ বেনাপোল বন্দরের বাণিজ্যরাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ভুটান সফরের আমন্ত্রণসংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে আগামীকালপাকিস্তানের হাসপাতালে আগুন, ১৫ নবজাতকের মৃত্যুযুক্তরাষ্ট্রের ৯০০ পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ কানাডার
No icon

২৮ সেপ্টেম্বর থেকে আবার হামের টিকা পাবে শিশুরা

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত মার্চে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেয় সরকার। এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচি পরে সারাদেশে সম্প্রসারিত হয় এবং মে মাসের মাঝামাঝি টিকাদান শেষ হয়। আশা করা হয়েছিল, এর পর হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে আসবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। এখনও প্রতিদিন হাজারখানেক রোগীর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। মৃত্যুর খবরও আসছে প্রতিদিন।এমন পরিস্থিতিতে বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনতে আবারও বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নিতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সারাদেশে একযোগে এ ক্যাম্পেইন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রায় ৩০ লাখ শিশুকে নতুন করে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে এমন সিদ্ধান্ত হয়।স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী সম্প্রতি নতুন করে টিকাদানের ঘোষণা দিয়ে বলেন, কিছু এলাকায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশু টিকা পায়নি। তাদের সবাইকে টিকার আওতায় আনা হবে। সরকারের কাছে এখনও ১৬ লাখ টিকা রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন  জানান, হাম পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সরকার আবারও বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইনে যাচ্ছে। হামের প্রকোপ সারাদেশে চলমান থাকায় নতুন করে টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সারাদেশে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এতে প্রায় ৩০ লাখ শিশুকে নতুন করে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের সর্বশেষ নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪৪। নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ জন। দুই ধরনের মৃত্যু মিলিয়ে মোট সংখ্যা ৯৪৩।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে হামের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর ৫ এপ্রিল ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়। ২০ এপ্রিল থেকে তা সারাদেশে চালু করা হয়। তবে ওই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে কত শিশু বাদ পড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারের দাবি, ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। লক্ষ্যের বিপরীতে ১০৩ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই বয়সী শিশুদের জন্য জাতীয় ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই কোটি ২৬ লাখ। দুই কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ব্যবধান প্রায় ৪৬ লাখ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ থেকে বোঝা যায়, হামের টিকাদান কর্মসূচির বাইরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু থেকে গেছে।জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক বে-নজীর আহমদ সমকালকে বলেন, বাংলাদেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতি নজিরবিহীন। টিকাদানে ঘাটতি এবং চিকিৎসাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের স্বাস্থ্য জটিলতা ও মৃত্যুর হার বাড়ার পেছনে বড় একটি কারণ রোগ প্রতিরোধ স্মৃতির অবলুপ্তি। হামের ভাইরাস শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্মৃতিকোষের প্রায় ৭৩ শতাংশ ধ্বংস করে দিতে পারে। ফলে হাম থেকে সাময়িকভাবে সুস্থ হয়ে উঠলেও শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। পরবর্তী কয়েক মাস সাধারণ সংক্রমণেও শিশুর অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ৯৮৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এক লাখ ৫১ হাজার ৬৩৮ জনের। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৫৭৮ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯১ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ৩২ হাজার ৫৫৪ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ৮১১ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। হামের উপসর্গে মারা যাওয়া পাঁচজনের চারজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন সিলেট বিভাগের।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিসংখ্যানে রোগীদের বয়সভিত্তিক তথ্য দেওয়া হয় না। রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হওয়া মৃত্যুকে হামের কারণে মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয়।