ঢাকার আবহাওয়া আজ থাকবে যেমনভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইল ফিফাগ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটার আশাআজ সবার জন্য খুলছে জুলাই জাদুঘরবদলে গেছে বৃষ্টির ধরন, প্রস্তুতি পুরোনো ধারায়
No icon

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটার আশা

কক্সবাজারের মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটি বয়লার চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গতকাল বুধবার মধ্যরাতে বয়লারটি চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এটি সচল হলে সীমিত পরিসরে এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ (রিগ্যাসিফিকেশন) শুরু করা সম্ভব হবে। টার্মিনালে এলএনজির মজুত কম থাকায় এখনই পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আজ বৃহস্পতিবার একটি এলএনজি কার্গো টার্মিনালে যুক্ত হতে পারলে ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়বে। এতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা গ্যাস সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিতীয় বয়লারটি চালু করতে আরও সময় লাগবে।পেট্রোবাংলার একাধিক সূত্র জানায়, একটি বয়লার দিয়ে দৈনিক প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পুনঃগ্যাসীকরণ করা যায়। কার্গো থেকে পর্যাপ্ত এলএনজি পাওয়া গেলে সমপরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ সম্ভব হবে। তবে টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় না ফেরা পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (কেজিডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দিন গতকাল চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের বলেন, একটি বয়লার আংশিক চালু হলে চলমান সংকট কিছুটা কমবে। তিনি জানান, গত কয়েক দিন ধরে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের পর কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর থেকেই টার্মিনালটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৫২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। বর্তমানে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২১৩ কোটি ঘনফুটে, যা দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুটের চাহিদার তুলনায় অনেক কম। গ্যাস সংকটের বহুমুখী প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও সার কারখানা, সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহকের ওপর।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্নায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় সকাল ও সন্ধ্যায় একেবারেই গ্যাস থাকছে না। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। এতে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী গতকাল সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি। তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ থেকে ছয়টি টেক্সটাইল কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

গ্যাস সংকটের ধাক্কা লেগেছে বিদ্যুৎ খাতেও। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ ৯৯ কোটি ঘনফুট থেকে কমে ৬৭ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এ কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। গত কয়েক দিনে দেশে দৈনিক গড়ে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে।গতকাল ভোর ৫টার দিকে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় দুই হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের কারণে সকাল ১০টার পর বিদ্যুতের চাহিদা কমে আসে। দুপুরে চাহিদা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াটে নেমে এলে লোডশেডিংও কিছুটা কমে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি সাময়িক স্বস্তি মাত্র। বৃষ্টি কমে তাপমাত্রা বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা আবারও বাড়বে; গ্যাস সরবরাহ না বাড়লে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ফের অবনতি হতে পারে।জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, এলএনজি টার্মিনালের একটি বয়লার চালু হওয়া ইতিবাচক খবর হলেও সংকট পুরোপুরি কাটাতে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিতীয় বয়লারটিও সচল করতে হবে এবং নিয়মিত এলএনজি কার্গো খালাস নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।