দেশে যক্ষ্মাসহ ৯টি মারাত্মক রোগের টিকার কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আগামী জুন মাস পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে এবং কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারে টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।শুক্রবার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান অবস্থা ও টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী স্বীকার করেন, বিসিজি সিরিঞ্জের ক্ষেত্রে মে মাসে কিছুটা ঘাটতি দেখা দেওয়ার শঙ্গা ছিল। তবে সেটি মোকাবিলায় ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, আগামী সাতদিনের মধ্যে আমরা আংশিক সিরিঞ্জ সরবরাহ পেয়ে যাব। ইউনিসেফের সঙ্গে কথা হয়েছে, মে মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ ডেলিভারি সম্পন্ন হবে। বর্তমানেও আমাদের হাতে পর্যাপ্ত সিরিঞ্জ রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আগের সময়টাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি অগোছালো অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে এবং জনস্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর করোনাকালীন অব্যবহৃত ৬০৪ কোটি টাকা অবমুক্ত (রিলিজ) করেছে। এই অর্থ এখন প্রয়োজনীয় ওষুধ ও টিকা কেনায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া ইউনিসেফ, গ্লোবাল ফান্ড ও গ্যাভির (এঅঠও) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করছে।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ঘটনায় কঠোর বার্তা
সম্প্রতি শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে হামের টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বাইরে থেকে টিকা কিনতে বাধ্য করার ঘটনাকে ‘টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেইন সিস্টেম হিসেবে অভিহিত করেছেন মন্ত্রী।তিনি বলেন, যারা এই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করেছে এবং বাইরে থেকে টিকা কিনতে প্ররোচিত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জড়িত প্রমাণিত হলে সরাসরি চাকরি থেকে বরখাস্ত (টার্মিনেট) করা হবে।
হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুতি
হামের প্রকোপ রোধে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলাকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে দ্রুত টিকা দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২০ তারিখ থেকে সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে, যা বগুড়া থেকে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের আগাম প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনগুলোকে মশা নিধনে ওষুধের সঠিক মিশ্রণ নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নজরদারিতে বিশেষ কমিটি
ভ্যাকসিনের স্টক তদারকি করতে মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে স্টকের অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে।মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, আগামী ৬ মাস পর্যন্ত আমাদের স্টক নিশ্চিত করা হয়েছে এবং মজুত শেষ হওয়ার অন্তত ৬০ দিন আগেই পরবর্তী সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে ভবিষ্যতে টিকার কোনো সংকট হওয়ার সুযোগ নেই।