বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আইসিসিরগ্যাস ও এলপিজি সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ততাপমাত্রা নিয়ে যা জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তরউত্তপ্ত ভোটের মাঠনির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিদেশি কূটনীতিকদের বৈঠক আজ
No icon

জোরালো প্রচারে বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আটঘাট বেঁধে প্রচারে নেমেছে বিএনপি। প্রতিটি আসনে দল মনোনীত প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নেতাকর্মীদের মতো বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে চলেছেন। সবার আগে বাংলাদেশ স্লোগান তুলে সাধারণ মানুষের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন সবাই।এর বাইরে সামাজিক মাধ্যমসহ নানা মাধ্যমে দলের প্রচার-প্রচারণায় গুরুত্ব দিয়েছে দলটি। নির্বাচনী প্রচারের শুরুর প্রথম ভাগেই নির্বাচনী থিম সং প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা না হলেও তাদের প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষি কার্ড, কীভাবে কৃষকদের ডিজিটাল নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে এসে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা যায় এ বিষয়গুলো নিয়ে বিএনপির ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে পুরো দল তপশিল অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রচারে নেমেছে সব দল। এর আগে রাত ১২টা ১ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির থিম সং প্রকাশ করা হয়েছে। ওই সময় থেকেই দেশের প্রতি আসনের প্রার্থীরা ব্যানার, ফেস্টুন লাগিয়েছেন। রাস্তাঘাটে, হাটবাজারে সাধারণ মানুষের কাছে লিফলেট বিতরণ করছেন। নানা প্রতিশ্রুতি সংবলিত এসব লিফলেটে উন্নয়নকে জোর দিয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি আর মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।নির্বাচনী প্রচারণায় দলের প্রতি স্তরের নেতাকর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকি কেন্দ্রীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীকে যার যার নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোট চাইতে টিম করে পাঠানো হয়েছে। ঢাকাতেও এ রকম আসনভিত্তিক টিম গঠন করা হয়েছে। এমনকি আসনের ওয়ার্ডভিত্তিক, ইউনিটভিত্তিক ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, শ্রমিক দলসহ অন্যান্য সংগঠনের আলাদা আলাদা টিম গঠন করেছে দলটি। তারেক রহমানের সফরে উজ্জীবিত নেতাকর্মী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনেই সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় সমাবেশ করেন। তাঁর উপস্থিতিতে প্রতিটি সমাবেশে বিপুল নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে নির্বাচনী বড় শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সাধারণ মানুষও। দেশ গঠনে তাঁর ৩১ দফার সঙ্গে আট পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, প্রতি জেলায় তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ভোটের অনেক সমীকরণ পাল্টে যাচ্ছে। নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগে অনেক সমাবেশ হয়েছে, কিন্তু এবারের সমাগম ব্যতিক্রম। এটি কোনো একক দলের কর্মসূচি নয়, এটি একটি জনসম্পৃক্ত আয়োজন। ডিজিটালি প্রচারে গুরুত্ব অনেক আসনে বিএনপি প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে ওয়েবসাইট, সফটওয়ার খুলেছেন। এসব সাইটে ভোটাররা তাদের মতামত দিতে পারবেন, তাদের সুবিধা-অসুবিধা কিংবা অভিযোগ জানাতে পারবেন। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে অনেক প্রার্থী তাদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সমাধানও করছেন বলে জানান ঢাকা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন।

আবার ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করছেন কেউ কেউ। ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হক জানান, তিনি ডিজিটালি সাধারণ মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোর সব চেষ্টাই করছেন। এর মধ্য দিয়ে খুব সহজেই তাঁর এলাকার লোকজন তাদের মতামত দিতে পারেন, কঠোর গোপনীয়তায় অভিযোগও জানাতে পারেন। সেসব অভিযোগ আমলে নিয়ে তাঁর এলাকার সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে অনেক কাজ সম্ভব হয়েছে। কয়েক আসনে কোন্দলে বিভক্তি এসবের বাইরে অর্ধশতাধিক আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী, বিদ্রোহী এবং বঞ্চিতদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিভক্তি বাড়ছে। এটাকে কমিয়ে আনার প্রক্রিয়া এখনও শেষ করতে পারেনি দলটি। কোথাও কোথাও দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। এই অস্থিরতা দ্রুত থামানো না গেলে নির্বাচনের ফলে প্রভাব পড়তে পারে বলে দলের নেতারা মনে করছেন।

আবার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যেসব নেতা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএনপি। এ পর্যন্ত ৭১ জন বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আবার বেশ কয়েকজন প্রার্থী দলের সিদ্ধান্ত মেনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। যারা সিদ্ধান্ত না মেনে নির্বাচনের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকবেন দল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।

তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ নব্য, হাইব্রিড, অতীতে দলীয় সুবিধাভোগী, আন্দোলন-সংগ্রামে নিষ্ক্রিয় এবং প্রবাসে থাকা অনেককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যার কারণে ত্যাগী, যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতারা বঞ্চিত হয়েছেন। এতে সারাদেশে তৃণমূলে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী নন। দলের অভ্যন্তরে মতানৈক্য ও দ্বিধাবিভক্তির ফলে নির্বাচনী ফলাফলে লাভজনক হতে পারে প্রতিপক্ষ দল।

বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা সমকালকে বলেন, দলের মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থী এবং বঞ্চিতদের মধ্যে যে কোন্দল দেখা যাচ্ছে, এটা দলের জন্য অশনিসংকেত। এখন শুধু ধানের শীষ দেখে কেউ ভোট দেবে না। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন হয়েছে।