শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির তালিকা থেকে শুক্র-শনি বাদ দেওয়ার দাবিছুটির দিনেও মিলছে না স্বস্তি, আজ ঢাকার বাতাস ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ভাইভার তারিখ ঘোষণানতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ হবে পে স্কেল বাস্তবায়নবেতন বাড়ানোর প্রস্তাবে উপদেষ্টাদের অসন্তোষ
No icon

নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ হবে পে স্কেল বাস্তবায়ন

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরপর দায়িত্ব নেবে নতুন সরকার। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়েই অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। এই সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে ঠিকই, তবে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারে। ফলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এমনিতেই দেশে কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের কাছাকাছি অবস্থান করছে।এর মধ্যে রাজস্ব আদায়েও বড় ঘাটতির মুখে পড়েছে সরকার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। বছর শেষে এই ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।অন্যদিকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও ব্যাংক খাতে আস্থা পুরোপুরি ফেরেনি। বরং খেলাপি ঋণ বেড়ে রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। কৃষি খাতে উৎপাদন ও বিতরণ মোটামুটি স্থিতিশীল

থাকলেও শিল্প খাত গভীর সংকটে রয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টিকে থাকাকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। নিয়মিত কার্যক্রম চালানোই অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য দায় হয়ে উঠেছে।এমন বাস্তবতায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দ্বিগুণের বেশি হারে বেতন বাড়ানো হলে সমাজে আয়বৈষম্য আরও বাড়তে পারে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বেসরকারি খাতের কর্মীদের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে।জানা গেছে, সরকারের নিজস্ব আয়ের বড় অংশই বর্তমানে পরিচালন ব্যয়ে খরচ হচ্ছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবায়িত হচ্ছে ঋণনির্ভর অর্থায়নের মাধ্যমে। এই অবস্থায় পরিচালন ব্যয়ের আওতায় বেতন ও পেনশন খাতে অতিরিক্ত এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ২০ থেকে ২২ দিনের মধ্যেই দায়িত্ব নেবে নতুন সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তাদের সামনে সবচেয়ে বড় তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হবে রমজানের বাজার নিয়ন্ত্রণ। তবে এটি শুধু মৌসুমি চাপ নয়; উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল সরবরাহ ব্যবস্থা, বিনিয়োগ সংকট, রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের ঝুঁকি এবং বাড়তে থাকা সরকারি ব্যয়ের সম্মিলিত চাপ।

এই বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলায় নতুন সরকারকে একদিকে কঠিন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপও সামলাতে হবে। দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাওয়ায় জনগণের প্রত্যাশাও বেড়েছে। যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, তাদের সামনে প্রত্যাশার পাহাড় থাকবে। পাশাপাশি নির্বাচনের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করলে রাজনৈতিক অস্থিরতাও বাড়তে পারে।এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, সব গ্রেডে একসঙ্গে এত বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি সরকারের জন্য বড় ধরনের বাধা তৈরি করবে। বর্তমান রাজস্ব আয় পরিস্থিতিতে এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন। বেতন বৃদ্ধির আগে অর্থায়নের উৎস নিশ্চিত করা জরুরি। তার মতে, বেতন বৃদ্ধির প্রয়োজন আছে, তবে কমিশন কী ভিত্তিতে এত বেশি হার সুপারিশ করেছে তা পুনর্বিবেচনা করা দরকার। না হলে করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। তিনি মনে করেন, সহনীয় পর্যায়ে বেতন বাড়ানো উচিত এবং বিষয়টি নতুন সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, এখন সরকারি বেতন বেসরকারি খাতকে ডিঙিয়ে যাবে। এতে বেসরকারি খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমনিতে বাজেট বাস্তবায়ন করতে ঋণের বোঝা বাড়ছে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলে ঋণের বোঝার নিচে চাপা পড়বে।