এফডিসির ঘটনায় ডিপজল-মিশা সওদাগরের দুঃখ প্রকাশপ্রধানমন্ত্রী আজ থাইল্যান্ড যাচ্ছেনগরমের তীব্রতা কমাতে কী কাজ করেছেন, জানালেন হিট অফিসারবিনা ভোটে নির্বাচিত ৩৩ প্রার্থীসব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেনে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে
No icon

নকল ভ্যাকসিনের ভয়ংকর বাণিজ্য

ভারত থেকে অবৈধ পথে এনে মজুত করা হতো হেপাটাইটিস-বি র আমদানি নিষিদ্ধ ভ্যাকসিন (টিকা)। পরে একটি ভেঙে ১০টি নকল অ্যাম্পুলে ভরে চলত জরায়ুমুখ ক্যান্সারের ভ্যাকসিন হিসেবে সরবরাহের প্রক্রিয়া। সেগুলোর একেকটি বিক্রি হতো আড়াই হাজার টাকায়। ফলে ৩৫০ টাকায় কেনা একটি নিষিদ্ধ টিকা ভিন্ন নামে বিক্রি করে মেলে ২৫ হাজার টাকা। এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে ভয়ংকর এসব তথ্য।শুধু তাই নয়, ঢাকা ও গাজীপুরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচারণা ও বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে প্রকাশ্যেই এমন কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল চক্রটি। এই প্রচারণা ও বাজারজাতকরণে ডা. এ আর খান ফাউন্ডেশন, আল নূর ফাউন্ডেশন ও পপুলার ভ্যাকসিনেশন সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানের নামও এসেছে। গত দুই বছরে এই চক্র শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৬ হাজার নারীকে নকল ভ্যাকসিন দিয়েছে। তিন ডোজের মধ্যে প্রত্যেকে গড়ে দুই ডোজ নিয়ে থাকলেও প্রতারকদের পকেটে গেছে অন্তত ৩ কোটি টাকা। আর নকল ভ্যাকসিনের বিষয়টি জানার পর এর প্রতিক্রিয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। অথচ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এমন প্রতারণার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি স্বাস্থ্য বিভাগ। কেউ কেউ বলছেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীলদের ম্যানেজ না করে এমন কর্মকাণ্ড চলতে পারে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা সংস্থার উপদেষ্টা মোশতাক হোসেন  বলেন, দেশে নকল ও ভেজাল ওষুধ নিয়ন্ত্রণে আইন রয়েছে। এটি বাস্তবায়নে কাজ করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। তাদের সহযোগিতা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মাঝেমধ্যে বাজার থেকে ওষুধ নিয়ে সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা দরকার তা ঠিক আছে কিনা। তবে জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস পাচ্ছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর ৫ লাখ ৭০ হাজার নারী জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে মৃত্যু হয় অন্তত ৩ লাখ ১০ হাজার নারীর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে আসে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৮ হাজার নারী নতুন করে জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর প্রতিবছর ১২ হাজার নারীর মারা যাচ্ছেন।