দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পবিত্র আল-আকসা মসজিদে আবারও সমবেত হলেন লাখো মুসল্লি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর মসজিদটি খুলে দেওয়ার প্রথম শুক্রবারেই এক লাখের বেশি মানুষ জুমার নামাজে অংশ নিয়েছেন। এএফপি সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ইসলামি ওয়াক্ফের তথ্যমতে, শুক্রবারের নামাজে অংশ নিতে জেরুজালেমের পুরোনো শহরের আল-আকসা প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল নামে। এএফপিটিভির সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, নামাজের সময় পুরো প্রাঙ্গণ মুসল্লিতে পরিপূর্ণ ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাতের কারণে এই পবিত্র স্থানটি বন্ধ থাকায় এ বছর পবিত্র রমজান মাসেও মুসল্লিরা এখানে প্রবেশ করতে পারেননি। দীর্ঘ বিরতির পর এমন সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ।
নামাজ শেষে ৩৯ বছর বয়সী শরিফ মোহাম্মদ বলেন, “জুমার নামাজ আমাদের জন্য ফরজ, কিন্তু ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসায় তা আদায় করার অনুভূতি একেবারেই আলাদা।” ৫৫ বছর বয়সী আহমাদ আম্মার এই মুহূর্তটিকে বর্ণনাতীত বলে অভিহিত করেন। অনেক মুসল্লি আশা প্রকাশ করেন যে, এই পবিত্র স্থানটি যেন আর কখনো বন্ধ করে দেওয়া না হয়।
বৃহস্পতিবার যুদ্ধবিরতির পর আল-আকসা মসজিদের পাশাপাশি ইহুদিদের জন্য 'ওয়েস্টার্ন ওয়াল' এবং খ্রিস্টানদের জন্য 'চার্চ অব দ্য হোলি সেপালখার' দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। জেরুজালেমের এই পুরোনো শহরটি মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টান তিন ধর্মের মানুষের কাছেই অত্যন্ত পবিত্র।
মসজিদ খুলে দেওয়া হলেও ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের জন্য বয়স ও অনুমতি সংক্রান্ত কঠোর বিধিনিষেধ এখনো বহাল রয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জারি করা জরুরি অবস্থার অধিকাংশ কড়াকড়ি তুলে নিলেও লেবানন সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলে এখনো কঠোর সতর্কতা জারি আছে। সেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘাত এখনো অব্যাহত।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আজ শুরু হতে যাওয়া ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তীব্র অনাস্থা প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের ওপর ‘পুরোপুরি অবিশ্বাস’ নিয়ে তারা আলোচনায় বসছেন।
ইরানি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, সম্প্রতি জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুলের সঙ্গে এক আলাপকালে আরাগচি এই মন্তব্য করেন। ওয়াশিংটনের অতীতের নানা কর্মকাণ্ডকে ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ’ ও ‘কূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান তার দেশের জনগণের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় পুরো শক্তি দিয়ে লড়বে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে ইসলামাবাদের হাই-প্রোফাইল এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা হ্রাস এবং যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য নিয়ে দুই দেশ টেবিলে বসলেও ইরানের এই কঠোর অবস্থান আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে।
ইসলামাবাদে চলমান ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার শুরুতেই বড় ধরনের অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে আলোচনার জন্য একটি ‘ইতিবাচক সংকেত’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে যে, এই সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার শর্তের সঙ্গে যুক্ত। মূলত এটিই ছিল চলমান আলোচনার অন্যতম প্রধান এবং জটিল ইস্যু।
অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে, কাতারের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন (৬০০ কোটি) ডলার ছাড় দিতে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন বা কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মূলত দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির লভ্যাংশ। ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে এই অর্থ আটকে যায়। ২০২৩ সালে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এক বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় এই অর্থ কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তখন শর্ত ছিল, এই অর্থ কেবল খাদ্য ও ওষুধের মতো মানবিক কাজে ব্যয় করা যাবে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু হলেও ওই বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর জো বাইডেন প্রশাসন পুনরায় এই অর্থ স্থগিত করে দেয়। দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকার পর এবার ইসলামাবাদ আলোচনার টেবিলে সেই জট খোলার ইঙ্গিত পাওয়া গেল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের এই সিদ্ধান্ত ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় বরফ গলার প্রথম ধাপ। যদি এই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াটি মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা হ্রাস এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সাফল্য আসতে পারে।
বিয়ের বয়স বাড়লে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেকার সেই রসায়ন আর থাকে না। বরং সবটা গিলে নেয় সাংসারিক জটিলতা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সামান্য কথা থেকেই অশান্তি তৈরি হয়। আর তখনই জীবনে জায়গা করে নেন নানারকম ডেটিং অ্যাপ।
পহেলা বৈশাখকে ঘিরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) চলছে বর্ণিল প্রস্তুতি। বাঙালির সর্বজনীন এই উৎসবকে সামনে রেখে চারুকলা অনুষদের আয়োজনে এবারের বৈশাখী শোভাযাত্রায় উঠে আসছে ঐতিহ্য, বৈশ্বিক সংকট ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সমন্বিত চিত্র।
চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক হুমায়ুন কবির
দেশের সরকারি তথ্য ও প্রচার ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন তথ্য অধিদফতরে (পিআইডি) বড় ধরনের জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) প্রকাশিত এক সরকারি তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়েছে, ফটোগ্রাফার
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারোনেটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা)-এর নভোযান আর্টেমিস ২’র নভোচারীরা ফিরে এসেছেন। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
গতকাল ১০ এপ্রিল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ উপকূলে আর্টেমিস
সারাদেশে হামজনিত নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের জীবন বাঁচাতে আশার আলো দেখাচ্ছে সাশ্রয়ী মূল্যের এক অনন্য উদ্ভাবন ‘বাবল সিপ্যাপ’ আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) উদ্ভাবিত এই শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়ক যন্ত্রটি ব্যবহারের ফলে শিশুদের মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষ করে ফুসফুসের জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতে এটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এই প্রযুক্তি সরবরাহ শুরু হয়েছে।
দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে জীবনরক্ষাকারী এই প্রযুক্তি মহাখালীর আইসিডিডিআর,বি’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বাবল কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেশার (বিসিপ্যাপ) এর ব্যবহার দ্রুত জনপ্রিয় ও বিস্তৃত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
color:#ffffff">৭ এপ্রিল পর্যন্ত ২৯ জন শিশু এই বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করেছে। স্বল্পমূল্যের এই জীবনরক্ষাকারী পদ্ধতি সময়মতো প্রয়োগের ফলে জটিল ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের শারীরিক অবস্থা দ্রুত স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়েছে, যাদের জন্য ব্যয়বহুল বা জটিল চিকিৎসা প্রদান করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিলো।
এই উদ্ভাবন নিয়ে আইসিডিডিআর,বি’র সিনিয়র সায়েন্টিস্ট মোহাম্মদ যোবায়ের চিশতী বলেন, “বাবল সিপ্যাপ একটি সহজলভ্য ও কার্যকর শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়তা পদ্ধতি। এটি গুরুতর নিউমোনিয়া ও রক্তে অক্সিজেনের স্বল্পতায় (হাইপোক্সেমিয়া) আক্রান্ত শিশুদের ফুসফুস সচল রাখতে এবং শরীরে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিতে অনন্য ভূমিকা রাখে।”
আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. থ্যাডিয়াস ডেভিস মে এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন,“বাংলাদেশে গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত এই পদ্ধতিটি কেবল ঢাকার হাসপাতালেই নয়, বরং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশেও শিশুদের প্রাণ রক্ষা করছে। সীমিত সম্পদের পরিবেশে এর কার্যকারিতা বিশ্বজুড়ে প্রমাণিত।”
সারাদেশে হামজনিত নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের জীবন বাঁচাতে আশার আলো দেখাচ্ছে সাশ্রয়ী মূল্যের এক অনন্য উদ্ভাবন ‘বাবল সিপ্যাপ’।
ছড়িয়ে পড়ছে জীবনরক্ষাকারী এই প্রযুক্তি
;মহাখালীর আইসিডিডিআর,বি’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বাবল কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেশার (বিসিপ্যাপ) এর ব্যবহার দ্রুত জনপ্রিয় ও বিস্তৃত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
color:#ffffff">৭ এপ্রিল পর্যন্ত ২৯ জন শিশু;এই বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করেছে। স্বল্পমূল্যের এই জীবনরক্ষাকারী পদ্ধতি সময়মতো প্রয়োগের ফলে জটিল ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের শারীরিক অবস্থা দ্রুত স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়েছে, যাদের জন্য ব্যয়বহুল বা জটিল চিকিৎসা প্রদান করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিলো।
এই উদ্ভাবন নিয়ে আইসিডিডিআর,বি’র সিনিয়র সায়েন্টিস্ট মোহাম্মদ যোবায়ের চিশতী বলেন, “বাবল সিপ্যাপ একটি সহজলভ্য ও কার্যকর শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়তা পদ্ধতি। এটি গুরুতর নিউমোনিয়া ও রক্তে অক্সিজেনের স্বল্পতায় (হাইপোক্সেমিয়া) আক্রান্ত শিশুদের ফুসফুস সচল রাখতে এবং শরীরে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিতে অনন্য ভূমিকা রাখে।”
আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. থ্যাডিয়াস ডেভিস মে এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “বাংলাদেশে গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত এই পদ্ধতিটি কেবল ঢাকার হাসপাতালেই নয়, বরং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশেও শিশুদের প্রাণ রক্ষা করছে। সীমিত সম্পদের পরিবেশে এর কার্যকারিতা বিশ্বজুড়ে প্রমাণিত।

