সিম বিক্রি করতে পারবে না গ্রামীণফোনআগামী জাতীয় নির্বাচন ইভিএমে না ব্যালটেআগেভাগেই পশুর হাট, ভোগান্তিতে স্থানীয়রাবুস্টার ডোজে গতি নেই সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখীআইএমএফ থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার
No icon

একুশ নভেম্বরের অপেক্ষা

২১- সংখ্যাটা এতদিনে ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে গেছে। অনেকে হয়তো ক্যালেন্ডারের পাতায় দাগ কেটে হিসাবটা মিলিয়ে নিচ্ছেন। একটি দিন কমছে তো একটু দীর্ঘশ্বাস! এভাবে দেখতে দেখতে ২১ নভেম্বর ২০২২, সেই মাহেন্দ্রক্ষণে এসে মিলবে গোটা বিশ্ব। আজ থেকে আর ১৫৭ দিনের অপেক্ষা। এর পরই পৃথিবী নাচবে ফুটবলের তালে। এই অঞ্চলে অবশ্য নাচের ধরনে থাকে ভিন্নতা। উৎসবের মতো করে প্রিয় দলের পতাকা কেউ টানায় বাড়ির আঙিনায়, কেউবা টেলিভিশন সেটের আশপাশে, কেউ আবার ছাদে। ঘরে ঘরে দলাদলি, জল্পনা কল্পনাসহ কত কী? পাড়ার চায়ের দোকানগুলোতে নতুন সাজ। পতাকার রঙে দোকানি রাঙান তাঁর মনের দেয়াল। ম্যাচ শুরু হতেই হৈ-হুল্লোড়ে প্রকম্পিত হয় আশপাশ। যে চিৎকারে কারও আবার মনে ধরে না বিরাগ। বলতে গেলে পুরো দেশটাই তখন এক সুরে, এক ছন্দে, এক স্বপ্নে থাকে বিভোর।

এবারের বিশ্বকাপটা নানা দিক থেকে একটু ব্যতিক্রম। যেখানে চার বছর পরপর জুন-জুলাইয়ে হতো ফুটবলের এই মহারণ, সেখানে এবার হবে নভেম্বর-ডিসেম্বরে। এর পেছনের মূল কারণ আয়োজক দেশ কাতারের কন্ডিশন। সাধারণত কাতারে জুন-জুলাই মাসে বেশ গরম অনুভব হয়। যেটা মোটেও সহনীয় নয়। আর দেশটিতে শীতের আগমনী নভেম্বরের পর থেকে শুরু করে অনেক সময় ফেব্রুয়ারি অবধি স্থায়ী থাকে। তাই যখন বেশি গরমও না বেশি শীতও না, তখনই বাজবে এবারের বিশ্বকাপের বাঁশি।মরুর মহাযজ্ঞে কে ফেভারিট, কে আন্ডারডগ- এরই মধ্যে সেটি নিয়েও চলছে আলোচনা। ৩২ দল ঠিক হওয়ার পর কেউ বলছেন, আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা দারুণ। কেউ বলছেন, ব্রাজিল এবার সবদিক থেকে পারফেক্ট। আবার কারও চোখে ভয়ংকর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। অনেকে তারুণ্যনির্ভর নতুন জার্মানিকে বসিয়েছেন ফেভারিট চেয়ারে। সবার ভাবনা এক হবেও না, এটাই স্বাভাবিক। তবে সাম্প্রতিক ফর্ম এবং দলের তারকাশক্তি বিবেচনায় দুই লাতিন পরাশক্তি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সঙ্গে ফেভারিট তালিকায় রাখতে হবে ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও ক্রোয়েশিয়া এমনকি বেলজিয়ামের মতো দেশকে।

মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বকাপ হওয়ায় ভারতীয় অঞ্চলের সমর্থকদের জন্য একদিক থেকে কিছুটা সুবিধাই হয়েছে। কেননা, আগের মতো সারারাত জেগে থাকতে হবে না এবার। ফিফার ঘোষিত ফিকশ্চার অনুযায়ী বেশিরভাগ ম্যাচ বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা, সন্ধ্যা ৭টা, রাত ১০টা ও রাত ১টায় শুরু হবে। কিছু ম্যাচ রাত ৯টায়ও শুরু। তা ছাড়া ফিকশ্চার বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, ফেভারিট কিংবা বড় দলের ম্যাচগুলো বিকেল ৪টা বা সন্ধ্যা ৭টায় পড়েছে বেশি। যদিও ব্রাজিল সমর্থকদের যাত্রাটা হবে রাত ১টা থেকে। ২৪ নভেম্বর গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে নেইমারদের প্রতিপক্ষ সার্বিয়া। তার আগে ২২ নভেম্বর বিকেল ৪টায় আর্জেন্টিনা তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে সৌদি আরবের বিপক্ষে। সবমিলিয়ে মাসব্যাপী বিশ্ব থাকবে বিশ্বকাপে বুঁদ হয়ে। কাতারের পাঁচটি শহরের আটটি ভেন্যুতে (আল থুমামা স্টেডিয়াম, খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম, আল বাইত স্টেডিয়াম, আহমেদ বিন আলি স্টেডিয়াম, লুসাইল স্টেডিয়াম, এডুকেশন সিটি স্টেডিয়াম, স্টেডিয়াম ৯৭৪, আল জানোব স্টেডিয়াম) তুমুল লড়াইয়ের পর লাখো-কোটি মানুষের আবেগ অনুভূতিরও আখেরি ফয়সালা হবে ১৮ ডিসেম্বরের ফাইনালের মধ্য দিয়ে।