রোহিঙ্গা থেকে অর্থনীতি: জাতিসংঘে প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রীর ১০ কর্মসূচিপ্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের জন্য বড় সুখবর, অক্টোবরেই যোগদানবৃষ্টি-তাপমাত্রা নিয়ে নতুন তথ্যতুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, কী আলোচনা হলোপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ
No icon

রোহিঙ্গা থেকে অর্থনীতি: জাতিসংঘে প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রীর ১০ কর্মসূচি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার নির্ধারিত ১২টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে তিনি সরাসরি ১০টিতে অংশগ্রহণ করেন। দিনভর তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অধিবেশন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং রোহিঙ্গা ইস্যু ও বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যস্ত দিনের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী ও প্লেনারি সেশনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের শীর্ষ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর এই উপস্থিতিকে একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করে ড. মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

এটি আমাদের জন্য আরও বেশি গৌরবের, কারণ একই সময়ে বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।প্রথম দিনের কর্মসূচিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে সার্কভুক্ত দুই দেশ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, জনগণের সঙ্গে জনগণের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, পর্যটন খাতের উন্নয়ন, এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সার্ক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্র প্রসারিত করতে এদিন হাইতির প্রধানমন্ত্রী এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় মূলত দেশটির বর্তমান অস্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি উঠে আসে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘ ও সফল অভিজ্ঞতার আলোকে হাইতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে উপকৃত হতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।অন্যদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকটিকে অত্যন্ত গঠনমূলক, আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন ড. মাহদী আমিন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক নির্বাচনে জয়লাভ এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান প্রেসিডেন্ট এরদোগান। পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুততম সময়ে তুরস্ক সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানান। বৈঠকে বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের বহুমুখী দিক এবং আগামীতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।প্রথম দিনের কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করা রোহিঙ্গা সংকট। এ বিষয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সঙ্গে দুটি পৃথক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি এসব বৈঠকে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। সংকট সমাধানে বৈশ্বিক অংশীদারি এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উদ্যোগ আরও জোরদার করার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলকে তাগিদ দেয় বাংলাদেশ।বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে এদিন বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও ফলপ্রসূ বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। আলোচনায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, অর্থনৈতিক উদারীকরণ, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং বাজেট সহায়তাসহ সরকারের বিভিন্ন নীতি সংস্কারের বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। বাংলাদেশের মেগা উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বিশ্বব্যাংকের আরও জোরালো ভূমিকা এবং ভবিষ্যতে দুই পক্ষের যৌথভাবে কাজ করার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়।ড. মাহদী আমিন জানান, সময়ের অভাবে প্রধানমন্ত্রী ১২টি কর্মসূচির সবগুলোতে সশরীরে অংশ নিতে পারেননি। তবে বাকি দুটি কর্মসূচিতে তাঁর পক্ষে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেটার (ফেসবুক) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, সাইবার নিরাপত্তা এবং দুই পক্ষের ডিজিটাল বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।ব্রিফিংয়ে জোর দিয়ে বলা হয়, প্রথম দিনের প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এবং গণমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।