নুরের ওপর হামলা অশনিসংকেত: শিবির সভাপতিস্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করলেন রাশেদনতুন রাজনৈতিক প্লাটফর্ম বৃহত্তর সুন্নী জোটের আত্মপ্রকাশযেসব জেলায় আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে নাঢাকায় বৃষ্টি ও তাপমাত্রা নিয়ে নতুন তথ্য
No icon

ছাত্র সংসদ কি জাতীয় নির্বাচনের পূর্বাভাস দেবে

আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে যাচ্ছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এবার কোনো দলীয় সরকার ক্ষমতায় নেই। স্বাধীনতার পর এবারই প্রথমবারের মতো এমন রাজনৈতিক পরিবেশে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে।বিভিন্ন মহলে এবারের ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের পরীক্ষা হিসেবে। কেননা, দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চলমান রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ছাত্র সংসদের মতো নির্বাচন আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলো কতটা সফল হতে পারে সে দিকে তাকিয়ে আছেন অনেকে।ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠন প্যানেল দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদের প্রার্থী বাছাই হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোও জাতীয় নির্বাচনের আগে ভোট নিয়ে তরুণ-তরুণীদের মতিগতি বুঝতে চাইবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। 

আবার আসন্ন সংসদ নির্বাচনেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের অনেকে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। ফলে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়েও তাদের মধ্যে বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, এই নির্বাচনে ভোটদানের পরিবেশ থেকে বোঝা যাবে জাতীয় নির্বাচন কেমন হবে। তাই নির্বাচনে কোন কোন পক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে, নির্বাচনী পরিবেশ কেমন, ভোটারদের মনোভাব পর্যালোচনা করে দেখা যাক- এ থেকে জাতীয় নির্বাচনের জন্য কী কী পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।কেন্দ্রে বিদ্রোহী, হলে প্রার্থী সংকট ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। জাহাঙ্গীরনগরে ১১, রাজশাহীতে ২৮ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ১২ অক্টোবর। এরই মধ্যে ডাকসু ও জাকসুর জন্য বিএনপির ছাত্রদল, জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রশিবির, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ও বাম ধারার সংগঠনগুলো সমর্থিত প্যানেল দিয়েছে। রাকসু ও চাকসু নির্বাচন ঘিরেও প্রস্তুতি চলছে।কেন্দ্রীয় সংসদের ক্ষেত্রে ছাত্রদল ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংদের একাধিক নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। ডাকসুতে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের (বাগছাস) প্যানেল থেকে বেরিয়ে এরই মধ্যে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে চারজনের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে। সম্পাদকীয় পদেও এই সংগঠনের চারজন নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

জাকসুতে ছাত্রদল প্যানেল ঘোষণা করেছে গত বৃহস্পতিবার। এরপর সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য একজন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। বাগছাসে এজিএস পদের বিপরীতে দুজন বিদ্রোহী হয়েছেন।হল সংসদের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে কোনো সংগঠনই পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিতে পারেনি। ছাত্রদল ১৪টিতে দিলেও ছাত্রশিবির ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ কোনো হলেই প্যানেল দেয়নি। শুক্রবার পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগরের ২১টি হলের সব পদে প্রার্থী দিতে পারেনি কোনো সংগঠন। কারণ হিসেবে, প্রার্থী সংকট ও হল রাজনীতিতে অনীহার কথা বলা হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল মেয়েদের হলে কোনো প্যানেল দিতে পারেনি।নির্বাচনের পরিবেশ নির্বাচনের দিন অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে সম্প্রতি সেনাপ্রধান বরাবর ক্যাম্পাসে সেনা মোতায়েনের আবেদন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কয়েকদিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, ক্যাম্পাসের প্রবেশ পথগুলোতে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে। তবে বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সুযোগ নেই।

এদিকে প্রার্থীদের মধ্যেও ভোটের প্রক্রিয়া ও পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা আছে। গত বুধবার ভোটদানের প্রক্রিয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন ডাকসুতে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম। বলেন, একজন ভোটারকে মোট ৪১টি ভোট দিতে হবে। প্রতিটি ভোট দিতে ৮ থেকে ১০ মিনিট সময় লাগবে। এ অবস্থায় অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক ভোটার কীভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন?একইদিন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা এক সংবাদ সম্মেলনে শঙ্কা প্রকাশ করেন, ভোটের ফল ঘোষণায় দেরি করা যাবে না। দেরি হলে একটি পক্ষ ফলাফল পরিবর্তন করতে পারে।জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ ঘিরেও নানা চ্যালেঞ্জের কথা বলা হচ্ছে। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে খোদ নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে ত্রয়োদশ নির্বাচন হবে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ভালো নির্বাচন করতে হবে। এর বিকল্প নেই।