যুদ্ধবিরতি শেষ হচ্ছে আজ, ইরানে ফের হামলার শঙ্কাস্পেনে গ্লোবাল সিফুড এক্সপোতে বাংলাদেশের ৮ প্রতিষ্ঠানসরকারি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পুরোনো ভাড়াই বহালইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন ট্রাম্পদেশজুড়ে তাপপ্রবাহ, হাওরে আগাম বন্যার শঙ্কা
No icon

মুমিন ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য কী?

পবিত্র কোরআনে বুদ্ধিমানদের যেসব বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে, তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো।

১. আল্লাহভীরু : বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা সর্বদা সর্বত্র আল্লাহকে ভয় করে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো, আত্মসংযমই শ্রেষ্ঠ পাথেয়। হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা! তোমরা আমাকে ভয় করো।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৯৭)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে বুদ্ধিমানরা! আল্লাহকে ভয় করো।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ১০)

২. সুপথ লাভকারী : উলুল আলবাব তথা বুদ্ধিমানরা আসমানি হেদায়াত লাভে অগ্রসর। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি অবশ্যই মুসাকে দান করেছিলাম পথনির্দেশ এবং বনি ইসরাঈলকে উত্তরাধিকারী করেছিলাম সেই কিতাবের পথনির্দেশ ও উপদেশস্বরূপ বোধশক্তিসম্পন্ন লোকদের জন্য।’ (সুরা : মুমিন, আয়াত : ৫৩-৫৪)

৩. উপদেশ গ্রহণকারী : বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা মনোযোগসহ মানুষের কথা শোনে এবং তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করে।

ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা মনোযোগসহ কথা শোনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা গ্রহণ করে। তাদেরকে আল্লাহ সৎ পথে পরিচালিত করেন এবং তারাই বোধশক্তিসম্পন্ন।’
(সুরা : ঝুমার, আয়াত : ১৮)

৪. কোরআন গবেষক : বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা কোরআনসহ আল্লাহর অন্যান্য নিদর্শন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে থাকে। ইরশাদ হয়েছে, ‘এক কল্যাণময় কিতাব, এটা আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতগুলো অনুধাবন করে এবং বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা গ্রহণ করে উপদেশ। (সুরা : সাদ, আয়াত : ২৯)

৫. আল্লাহর পরিচয় অনুসন্ধানকারী : জ্ঞানী ও বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমে আল্লাহর পরিচয় অনুসন্ধান করে। ফলে তারা আল্লাহর বড়ত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে বেশি অবগত থাকে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি কি দেখো না, আল্লাহ আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা ভূমিতে নির্ঝররূপে প্রবাহিত করেন এবং তদ্দ্বারা বিবিধ বর্ণের ফসল উৎপন্ন করেন। তারপর তা শুকিয়ে যায়। ফলে তোমরা তা পীতবর্ণ দেখতে পাও, অবশেষে তিনি তা খড়কুটায় পরিণত করেন। এতে অবশ্যই উপদেশ আছে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্য।’ (সুরা : ঝুমার, আয়াত : ২১)

৬. প্রজ্ঞাবান : ‘বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা সাধারণত প্রজ্ঞার অধিকারী হয়ে থাকে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা দান করেন। আর যাকে প্রজ্ঞা দান করা হয়, তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়। বোধশক্তিসম্পন্নরাই উপদেশ গ্রহণ করে।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১১১)

৭. ভালো-মন্দের পার্থক্যকারী : ‘বুদ্ধিমান লোকেরা ভালো-মন্দের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। ফলে তারা ভালোর অনুসরণ করে এবং মন্দ থেকে বিরত থাকে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা যে ব্যক্তি সত্য বলে জানে আর যে অন্ধ তারা কি সমান? উপদেশ গ্রহণ করে শুধু বিবেকশক্তিসম্পন্নরাই।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ১৯)