ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করলেন ট্রাম্পআবারও অস্থির রোহিঙ্গা ক্যাম্পইসলামী আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণাদুপুরের মধ্যে ৩ জেলায় বৃষ্টির আভাস, সতর্কসংকেতডিএসইতে গণছাঁটাই আতঙ্ক
No icon

সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে বছরে ‘১৮ কোটি চুরি’ অভিযোগ রাজ ঠাকরের

ভারতের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস) প্রধান রাজ ঠাকরে মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, মন্দিরটির দানবাক্স থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৮ কোটি রুপি আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই বক্তব্যে তিনি অযোধ্যার রাম মন্দিরে ১ হাজার ৪০০ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগও করেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি।

শনিবার (১ আগস্ট) এমএনএসের ছাত্র সংগঠনের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাজ ঠাকরে বলেন, সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে অনুদানের অর্থ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। তার দাবি, মন্দির ট্রাস্টের কয়েকজন ট্রাস্টি মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আনেন।

রাজ ঠাকরের ভাষ্য, অনিয়ম ধরা পড়ার আগে মন্দিরের সাপ্তাহিক অনুদান ৫০ লাখ রুপিরও কম ছিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় দেড় কোটি রুপিতে পৌঁছায়। তার মতে, অনুদান বৃদ্ধিই দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।

এদিকে সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং একনাথ শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনার নেতা সদা সর্বংকর জানান, অনুদানের অর্থ চুরির অভিযোগে মন্দিরের নয়জন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেখানে প্রয়োজন সেখানে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

সদা সর্বংকর আরও জানান, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার পর মন্দিরের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী, দুই বছর আগে মন্দিরের বার্ষিক আয় ছিল ১১৪ কোটি রুপি, যা বর্তমানে বেড়ে ১৮২ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, রাজ ঠাকরের অযোধ্যার রাম মন্দিরে ১ হাজার ৪০০ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক তথ্যও এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।

মুম্বাইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপাসনালয় সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ভক্ত অনুদান দেন। সাম্প্রতিক এই অভিযোগ এবং গ্রেপ্তারের ঘটনায় মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আত্মসাতের অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া