কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ১৩৬ বছরের প্রাচীন মসজিদ সরানোর তোড়জোড়কলকাতা বিমানবন্দরে ১৩৬ বছরের প্রাচীন মসজিদে নামাজ স্থগিতকলকাতা বিমানবন্দরে ১৩৬ বছরের প্রাচীন মসজিদে নামাজ স্থগিত২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিজিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ এড়াল বাংলাদেশ
No icon

কলকাতা বিমানবন্দরে ১৩৬ বছরের প্রাচীন মসজিদে নামাজ স্থগিত

কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (দমদম বিমানবন্দর) উচ্চ-নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরে অবস্থিত ঐতিহাসিক গৌরীপুর জামে মসজিদ (বাঁকড়া মসজিদ)-এ শনিবার থেকে আগামী তিন দিনের জন্য নামাজ আদায় স্থগিত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মসজিদটি বন্ধের মূল কারণ নিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মসজিদ কমিটির বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট অমিল দেখা গেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, ১৩৬ বছরের প্রাচীন এই ধর্মীয় উপাসনালয়টির ভেতরে সংস্কার কাজ চলার কারণে সাময়িকভাবে তিন দিনের জন্য নামাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম) নেতা তথা মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই শনিবার হঠাৎ মসজিদের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। সিআইএসএফ কর্মীদের সহায়তায় মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার ও এন্ট্রি পাস দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এই ঘটনাটি বিমানবন্দরের অতি-সুরক্ষিত জোনে অবস্থিত এই মসজিদের অবস্থান নিয়ে হিন্দুত্ববাদীদের দীর্ঘদিনের আপত্তিকে সামনে এনেছে। বিজেপি-র দমদম উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক সৌরভ সিকদার এই নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "বিমানবন্দর একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। এই মসজিদটি 'লেভেল-৩' নামক সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে অবস্থিত। যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশে কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকে এবং ভিভিআইপি চলাচল হয়, সেখানে এই মসজিদে আসার জন্য কোনো বায়োমেট্রিক পাস বা ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হয় না, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি।"

এছাড়াও, বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, মসজিদটি বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। এর ফলে রানওয়ের সম্প্রসারণ কাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং জরুরি অবতরণের সময় বড় বিমান চলাচলে বড়সড় বিমান সুরক্ষার ঝুঁকি তৈরি করছে।

দীর্ঘদিন ধরেই এই মসজিদটিকে বিমানবন্দর চত্বর থেকে বাইরে কোনো নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করার প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে। জানা গেছে, ভারতের কেন্দ্রে ও রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনের পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে মসজিদটি স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হওয়া গেছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত পুনর্বাসন পরিকল্পনা বা সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।

সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এই একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতা করে বলেছেন, ‘‘এই মসজিদটি ১৩৫ বছরেরও বেশি পুরোনো। যেকোনো সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত, এভাবে জোর করে প্রবেশ বন্ধ করা দুর্ভাগ্যজনক।’’ তিনি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট বিবৃতি পাওয়া যায়নি। আপাতত তিন দিনের জন্য ঐতিহাসিক এই মসজিদে আজানের ধ্বনি স্তব্ধ থাকায় বিমানবন্দরের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।