১৩ জেলায় ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আভাস, সতর্কসংকেতট্রাম্পের কঠোর অবস্থান, ফের যুদ্ধে প্রস্তুত ইরানবিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আজইরানের হামলায় ১৬ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্তঢাকা-দিল্লি পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ
No icon

ইরানের হামলায় ১৬ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান ও তার মিত্রদের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আট দেশে অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। এতে এসব ঘাঁটি ও স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে কয়েকটি।সিএনএনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। গত শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যমটি এসব ঘাঁটির ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে, যেখানে কয়েকটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান, সৌদি আরব, ইরাক, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। প্রকাশিত ফুটেজে কোনো কোনো ঘাঁটি পুড়ে ছাই হওয়ার চিত্রও দেখা গেছে।এটাকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। কুয়েতে বুহরিং সামরিক ঘাঁটির সংশ্লিষ্ট একজন সিএনএনকে বলেন, আমি আগে কখনও এ রকম কিছু দেখিনি। এগুলো দ্রুততর সময়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ধরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির হামলা। সৌদির প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে আগে থেকে মোতায়েন করা মার্কিন বিমানে হামলা হয়েছে। এতে কয়েকটি বিমান কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।

এসব ঘাঁটি বা স্থাপনা মেরামত করা নিয়েও দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র জানায়, এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের মূল্যায়ন হয়েছে। একদিকে যেমন বেশ নাটকীয়ভাবে বলা হচ্ছে, পুরো স্থাপনাটি ধ্বংস হয়ে গেছে; তাই এটি বন্ধ করে দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে নেতারা বলছেন, এগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত সুবিধা দেওয়ায় মেরামত করা উচিত।স্যাটেলাইট চিত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমটি জানায়, তেহরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন উন্নত রাডার ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিমান। এসবের অনেকটিই ব্যয়বহুল ও প্রতিস্থাপন করা কঠিন। প্রতিবেদনটি কয়েক ডজন স্যাটেলাইট চিত্র, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সূত্রের সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
কংগ্রেসের এক সহকারী বলেন, এটা লক্ষণীয়, তারা ওই স্থাপনাগুলোকেই আঘাত হানার জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ অঞ্চলে আমাদের রাডার ব্যবস্থাগুলোই সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও সবচেয়ে সীমিত সম্পদ। পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট তৃতীয় গত বুধবার আইনপ্রণেতাদের জানান, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে এ পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে।

পেন্টাগনের একটি মূল্যায়নের পর কংগ্রেসের এক কর্মকর্তা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, শুধু মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদরদপ্তরের মেরামত খরচই ২০০ মিলিয়ন ডলার হতে পারে। এনবিসির তথ্যমতে, আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (এআইআই) একটি বাহ্যিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইরানি বাহিনী কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটির একটি রানওয়ে এবং উত্তর ইরাকের একটি সামরিক ঘাঁটির গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারেও হামলা চালিয়েছে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সপরিবারে হত্যা করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। একই দিনে দেশটির মিনাব শহরে একটি মাধ্যমিক স্কুলে হামলা চালিয়ে দেড় শতাধিক শিশুকে হত্যা করলে শুরু হয় তীব্র যুদ্ধ। গত ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়, যা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুত অব্যাহত রেখেছেন।এ অবস্থায় ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতার দুই মাসের মেয়াদ আজ রোববার শেষ হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, নতুন করে যুদ্ধে জড়াতে হলে তাঁকে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু ট্রাম্প কংগ্রেসে অনুমোদন এড়াতে বেছে নিয়েছেন ভিন্ন পথ। ধারণা করা হয়, কংগ্রেসে বিরোধী ডেমোক্র্যাট ছাড়াও নিজ দলের অভ্যন্তরে বিরোধিতার মুখোমুখি হতে পারেন ট্রাম্প।

তিনি অনুমোদন না-ও পেতে পারেন। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতা শেষ হয়ে গেছে। আলোচনা চললেও কাটছে না অচলাবস্থা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনও আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত শুক্রবার পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবেও সন্তুষ্ট নন । এ অবস্থায় ইরানের সামরিক বাহিনী বলেছে, যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র কোনো চুক্তি বা সমঝোতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়, তাই যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তেহরান এ নিয়ে প্রস্তুত থাকার কথাও জানিয়েছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, ইরান চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের কাছে তার পরিকল্পনা পেশ করেছে। এখন কূটনীতির পথ বেছে নেওয়া বা সংঘাতমূলক পন্থা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। তিনি বলেন, ইরান তার জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে কোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে প্রস্তুত।