শাহ আমানতে আরও ৪ ফ্লাইট বাতিলঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আজ থেকে ডিএমপির অভিযানবাংলাদেশিদের জন্য ভিসা স্বাভাবিক করবে ভারত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীতেলের দামে সত্তরেও ধাক্কা লেগেছিল, এবারের পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছেস্কুল-কলেজে ৩ দিন অনলাইন ক্লাস, ৩ দিন অফলাইনে
No icon

তেলের দামে সত্তরেও ধাক্কা লেগেছিল, এবারের পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে

প্রায় এক মাস ধরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতি ১৯৭০-এর দশকেও তৈরি হয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে, চলমান সংকট কি ৫৫ বছর আগের ঘটনাকেও ছাড়িয়ে যাবে?

জাহাজ চলাচল বিশেষজ্ঞ ও ড্যানিশ শিপিং কোম্পানি মার্স্কের সাবেক পরিচালক লার্স জেনসেন বলছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাব দিনে দিনে আরও বাড়বে। এটি ১৯৭০ সালের অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।জেনসেনের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার পরিচালক ফাতিহ বিরোলের সতর্কতার অনুরূপ। চলতি মাসের শুরুতে ফাতিহ বলেছিলেন, বিশ্ব এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখোমুখি হয়েছে।বিবিসিকে ফাতিহ বলেন, ১৯৭০-এর দশকে আমরা তেলের দামে ধাক্কা দেখেছিলাম। চলমান সংকট সেটির চেয়ে অনেক বড়। এমনকি ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর আমরা প্রাকৃতিক গ্যাসের দামের যে ঊর্ধ্বগতি দেখেছিলাম, সেটির চেয়ে বিশাল।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী সরবরাহে বিঘ্ন ঘটালেও অনেকে যুক্তি দিচ্ছেন, বর্তমান বিশ্ব আগের তুলনায় অনেক বেশি সহনশীল, বাজারেও বৈচিত্র্য আছে। সত্তরের দশকে কী ঘটেছিল? যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরামর্শক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টল এনার্জির প্রধান নির্বাহী ও অর্থনীতিবিদ ক্যারল নাখলে বলছেন, ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট বর্তমান পরিস্থিতির চেয়ে মৌলিকভাবে ভিন্ন ছিল। কারণ তখনকার প্রথম তেলের ধাক্কাটি ছিল সুপরিকল্পিত নীতিগত সিদ্ধান্তের ফল ।১৯৭৩ সালের অক্টোবরে ইয়ম কিপুর যুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থন করার কারণে আরব তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ গোষ্ঠীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সে সময় এমন নীতির পাশাপাশি তেল উৎপাদনে সমন্বিতভাবে কাটছাঁটও করা হয়েছিল। ক্যারল নাখলে বলেন, এর ফলে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তেলের দাম প্রায় চার গুণ বেড়ে যায়।তৎকালীন পরিস্থিতির কারণে প্রধান তেল আমদানিকারক দেশগুলোতে জ্বালানি রেশনিং (সীমিত বণ্টন) শুরু হয়। নাখলে জানান, এটি একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংকট তৈরি করেছিল। প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

সে সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টের কুইন্স ইউনিভার্সিটির গবেষক টিয়ারনান হিনি জানান, তেলের চড়া দাম সব খাতেই মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছিল। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের খরচ কমিয়ে দেওয়ার কারণে বেকারত্ব বেড়ে যায়।টিয়ারনান আরও জানান, ওই সংকটের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে অনেক দেশের সামাজিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্যাপক ধর্মঘট, অস্থিরতা এবং দারিদ্র্য বৃদ্ধি পেয়েছিল। অনেক পরিবারই তখন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খায়।সত্তরের দশকের সেই সংকটের সময় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা টেড হিথ। মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় ১৯৭৪ সালে টেড সরকারের পতন ঘটে। এরপর বিশ্বের তেলের বাজারে দ্বিতীয় ধাক্কা আসে ১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের মাধ্যমে।

এখন কী ঘটছে? এক মাস ধরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল, গ্যাস এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সরবরাহ সচল করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। এর মধ্যে আছে, মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান এবং ইরানের ওপর চাপ তৈরি করতে কঠোরভাবে আঘাত হানার হুমকি দেওয়া।জাহাজ চলাচল বিশেষজ্ঞ লার্স জেনসেন বলছেন, এক মাসেরও বেশি সময় আগে পারস্য উপসাগর ছেড়ে আসা তেলের একটি বড় চালান এখনও বিশ্বের বিভিন্ন শোধনাগারে যাচ্ছে। কিন্তু সেই প্রবাহ হয়তো শিগগিরই বন্ধ হয়ে যাবে। তখন তেলের বর্তমান ঘাটতি আরও খারাপের দিকে মোড় নেবে। বিস্ময়করভাবে আগামীকাল হরমুজ প্রণালি খুলে দিলেও উদ্ভূত সংকট কাটতে সময় লাগবে।জেনসেন সতর্ক করে বলছেন, আগামীতে জ্বালানি ব্যয় বাড়বে। সংকট কেটে গেলে দাম কমে যাবে বিষয়টা এমন নয়। বরং এর প্রভাব অন্তত ৬ মাস থেকে ১ বছর স্থায়ী হবে।